নারী-শিশু ধর্ষণ ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় জামায়াতের উদ্বেগ প্রকাশ

০৯ মার্চ ২০২৫, ০৩:৫৫ PM , আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৫৭ PM
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার © সংগৃহীত

দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ৯ মার্চ এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত ৫ মার্চ দিবাগত রাতে মাগুরা সদরে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ৮ বছরের এক মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে। সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এদিকে ৯ মার্চ রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানিগঞ্জে চার মাসের এক অন্তঃসত্তা নারীকে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে পানগাঁও ঋষিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেকে নিয়ে কয়েকজন কুলাঙ্গার পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। অপর এক ঘটনায় গত ৫ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক ঢাবি শিক্ষার্থীকে ‘ওড়না ঠিক নেই’ বলে নাজেহাল করা হয়। এসব ঘটনায় প্রমাণিত হয় দেশে নারী ধর্ষণ ও সহিংসতা বেড়ে গিয়েছে। এইসব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দেশবাসীর সাথে সাথে আমরাও গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

আরও পড়ুন: ধর্ষণের বিচারের দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘মাগুরার আট বছরের মেয়ে শিশুর ধর্ষক ও ধর্ষণের সহযোগিতাকারীদের অপরাধ এক ও অভিন্ন। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এরকম ধর্ষক নামের নিকৃষ্টদেরকে পাকড়াও করে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাস, ট্রেন, লঞ্চ, অফিস, বাসা-বাড়ি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা কোথাও আজ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নেই। সারা দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তার খণ্ডিতাংশই সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহ। নারী ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা একটি মারাত্মক জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বসহ সমাজের সচেতন নাগরিকদেরকে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্ষকদেরকে ঘৃণা ও সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।’ 

আরও পড়ুন: ধর্ষণের শাস্তির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের হিড়িক রাবি শিক্ষার্থীদের

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই সমাজে নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যা, ছিনতাই, গুম, অ্যাসিড সন্ত্রাস ইত্যাদি বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার জন্য দায়ী নীতিহীন শিক্ষা ও সহশিক্ষা ব্যবস্থা, মাদকাসক্তি, সিনেমা এবং নাটকে অশালীন দৃশ্য প্রচার। এ অবস্থা থেকে একমাত্র কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে। নৈতিক শিক্ষা দিয়ে মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী নীতি-আদর্শ অনুসরণের উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করতে হবে। তাহলেই এ অবস্থার অবসান হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মাগুরার মেয়ে শিশুর ধর্ষকদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা পূর্বক দেশে নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা বন্ধের ব্যাপারে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

ট্যাগ: জামায়াত
মহেশপুর সীমান্তে তিন বাংলাদেশিকে আটক করল বিএসএফ
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ে পানির কল চুরি করতে এসে যুবক আটক
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে ঢাকা-দিনাজপুর বুলেট ট্রেন চাইলেন এমপি
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই শহিদদের স্মরণ না করলে এই সংসদ অপবিত্র হয়ে যাবে: নাছির…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সিনেমা হল থেকে আপত্তিকর অবস্থায় স্কুল-কলেজের ৩৫ ছাত্রছাত্র…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বিয়ের আগে অভিমানে না ফেরার দেশে সুইটি
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬