বুয়েট ছাত্র হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতেন রুমী

০১ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৮ AM

১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ এক চিকিৎসক তাঁর তত্ত্বাবধানে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক শিশু সম্পর্কে তার মাকে বলেছিলেন, ‘এটা ১৯৫১ সাল। ২০ বছর পরে ১৯৭১ সালে এই ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে।’ ডাক্তারের ভবিষ্যৎবাণীর দিকে দ্রুতগতিতে এগুচ্ছিলেন সেই শিশুটি। স্টার মার্কস নিয়ে ১৯৬৮ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। আগ্রহ থাকায় বুয়েটের পাশাপাশি বিশেষ অনুমতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগেও ক্লাস করতেন তিনি।

বলছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের গেরিলাযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমীর কথা। তিনি শহীদ জননী খ্যাত জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র। জাহানারা ইমাম রচিত একাত্তরের দিনগুলি গ্রন্থে রুমী অন্যতম প্রধান চরিত্র। পুত্র রুমীর শহীদ হওয়ার জন্যই জাহানারা ইমাম শহীদ জননী উপাধী পান। আজ এ মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম রুমীর জন্মদিন।

ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী রুমী ছিলেন তুখোড় তার্কিক। নানান জ্ঞানে তার মস্তিষ্ক ছিল পূর্ণ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, উদ্যমী ও প্রাণবন্ত। বুয়েটের ভর্তি হওয়ার পর আমেরিকার ইলিনয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার সুযোগ পান রুমী। ভর্তিও সম্পন্ন হয়। সেপ্টেম্বর ’৭১ থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিশ্চিত ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি উপেক্ষা করে সে পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে। নিজেকে উৎসর্গ করে দেয় স্বাধীনতার বেদিমূলে।

আমেরিকায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে যাওয়ার পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে মাকে রাজি করায় এই বলে: ‘আম্মা, দেশের এই রকম অবস্থায় তুমি যদি আমাকে জোর করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দাও, আমি হয়তো যাব শেষ পর্যন্ত। কিন্তু তাহলে আমার বিবেক চিরকালের মতো অপরাধী করে রাখবে আমাকে। আমেরিকা থেকে হয়তো বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে বড় ইঞ্জিনিয়ার হব; কিন্তু বিবেকের ভ্রূকুটির সামনে কোনো দিনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। তুমি কি তাই চাও, আম্মা?’ মা জাহানারা ইমাম তাকে দেশের জন্য উৎসর্গ করে দেন।

বাবা-মায়ের অনুমতি-আশীর্বাদ নিয়ে ১৯৭১ সালের ১৪ জুন রুমী প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের মেলাঘরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। প্রায় দেড় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অন্যান্য গেরিলা যোদ্ধার সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশ করে এবং গেরিলা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট ক্র্যাক প্লাটুনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। রুমীকে আনুমানিক রাত ১২টার দিকে বাবা শরীফ ইমাম, ছোট ভাই জামী, বন্ধু হাফিজ, চাচাতো ভাই মাসুমসহ তাদের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালায়। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রুমী তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কোনো কিছু স্বীকার করতে নিষেধ করে, সব দায়ভার নিজে বহন করে। অনিবার্য পরিণতি অনুধাবন করে ধরা না পড়া অন্য সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার জন্য সহ্য করে যায় অমানুষিক নির্যাতন। একই সময়ে ধরা পড়া রুমীর সহযোদ্ধা মাসুদ সাদেক জানান, চরম অত্যাচার সহ্য করেও রুমী কারও নাম প্রকাশ করেনি। দুই দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর পর পরিবারের অন্য সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও রুমীকে ছাড়া হয়নি। ফিরে আসার সময় বাবা শরীফ ইমাম রুমীর কথা জিজ্ঞেস করলে পাকিস্তানি কর্নেল জানায়, রুমী যাবে এক দিন পরে, ওর জবানবন্দি নেওয়া শেষ হয়নি। পরের সেই দিনটি আর আসেনি।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জাহানারা ইমাম রুমীর জীবনীগ্রন্থ লেখার কাজ শুরু করেন। শুরুতেই ১৯৫১ সালে সদ্য ভূমিষ্ঠ রুমীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ডাক্তারের মন্তব্যের প্রত্যুত্তরে লেখেন—রুমী ১৯৭১ সালে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেনি, তবে কিছু একটা হয়েছিল। সে দেশের জন্য শহীদ হয়েছিল।

স্কয়ার ফুড নিয়োগ দেবে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, থাকতে হবে ন…
  • ০৯ মে ২০২৬
নেত্রকোনায় ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
  • ০৯ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতিতে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত…
  • ০৯ মে ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসনে মেধার বদলে রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত…
  • ০৯ মে ২০২৬
হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেল আরও ৯ শিশু
  • ০৯ মে ২০২৬
ইনকোর্স ও অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়া ফরম ফিলাপ নয়, সময় বাড়াল জাতীয় …
  • ০৯ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9