দীর্ঘ নয় মাস ধরে মামলা চলার পর, গত বৃহস্পতিবার নাৎসি আমলে জার্মানির স্টুটহফ ক্যাম্পে পাঁচ হাজার ২৩০টি খুনের সাথে ব্রুনোর জড়িত থাকার অভিযোগ অবশেষে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে ব্রুনোকে হুইলচেয়ারে করে কোর্টে আনা হয়েছিল। তিনি একটি নীল সার্জিক্যাল মাস্ক পরেছিলেন। ব্রুনোকে আদালতে বিচারক যখন তার বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছিল, তখনও সে চোখ নীচু করে বসেছিল।
বিচারক অ্যানি মিয়ের গোরিং বলেন, আপনি যে অপরাধটি করেছেন তা নির্মম। আপনাকে এই কাজের সঙ্গে যোগ দেওয়াই উচিৎ ছিল না। কিন্তু আপনি যোগ দিয়েছিলেন। এখন আপনি শাস্তি পাবেন।
ব্রুনো নিজে পরে বলেছেন, তিনি গ্যাসের চেম্বারে লোকদের চিৎকার শুনেছিলেন। পরে মৃতদেহগুলিও বের হতে সে দেখেছে। এরপর থেকে সে প্রতি রাতে তার ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখত। কখনও ঘুমাতে পারেনি।
এদিকে ২০১১ সালের একটি শুনানি জার্মানির আইনে ব্যাপক বদল এনেছিল। কোনো নাৎসি ক্যাম্পে পাহারাদার পদে নিযুক্ত থেকে, সরাসরি কোনো খুনে অংশ না নিলেও, পাহারাদারের খুনির সমান শাস্তি ধার্য হয়েছিল তখন।
প্রসঙ্গত, ব্রুনো ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ডানস্কের পূর্বে স্টাথফ কনসেন্টেশন ক্যাম্পে প্রহরী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও ব্রুনোর নামে কেস চলছিল। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর।
যেহেতু সে নাবালক ছিল, তাই তাকে তখন ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মৃতদের আত্মীয় পরিজনেরা এই সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি। তাদের বক্তব্য ছিল এটা যুদ্ধে নিহতদের প্রতি অবিচার।
এরপর বহু বছর ধরে এই মামলা চলে। নিহতদের পক্ষে আইনজীবির বক্তব্য ছিল এই প্রহরীর বয়স তার অপরাধের মাত্রা কোনও ক্ষেত্রেই কম করে না।