জর্দানে মায়ের হাত ধরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর স্নাতকোত্তর

১৮ জুলাই ২০২০, ০২:৩৭ PM

© সংগৃহীত

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে এসে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর মায়ের সার্বিক সহায়তায় শিক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে এবার স্নাতকোত্তর পর্ব সম্পন্ন করেন জর্দানের আবু নসর এলাকার অধিবাসী ইয়াহইয়া। এর আগে তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে।

পরিবারে ছোটবেলা থেকেই তিনি মায়ের আদরে বেড়ে ওঠেন। তরুণ বয়সে এসেও মায়ের আঁচল ধরে চলেছেন তিনি। ইয়াহইয়ার ৬৪ বছর বয়সী মা পড়াশোনাসহ সব ক্ষেত্রে তাঁকে সহযোগিতা করেন। স্কুল, কলেজ পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও সঙ্গী হয়ে থাকত তাঁর মা। এমনকি মায়ের একান্ত প্রচেষ্টায় মুখে মুখে কোরআন পাঠ করে কয়েক বছরে পুরো কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেন ইয়াহইয়া।

উচ্চমাধ্যমিকে পড়াকালীন তার মা তাকে সব পড়া মুখস্থ করিয়ে দিতেন। প্রায় ৪৮ সপ্তাহ বা চার বছরের বেশি সময় ধরে মা ইয়াহইয়াকে জর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়িতে আনা নেওয়া করেন। পরীক্ষার সময় মা তাঁকে বই পড়িয়ে শুনাতেন। রেফারেন্স বই যোগাড় করে দিতেন। যেকোনো আলোচনা তাঁর জন্য রেকর্ড করে নিতেন।

প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে লাইব্রেরিতে থাকার সময়ও মা তাঁকে বই শুনিয়ে সাহায্য করত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে মা তাঁকে ক্লাসের সব পাঠ মুখস্ত করাতেন। ক্লাসের এসাইনমেন্ট, আলোচনা বা ক্লাসের সব কিছু প্রস্তুত করে দিত তাঁর মা। মাস্টার্সের থিসিস লেখার সময়ও মা তাঁকে সহায়তা করে।

জর্দান সরকারের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে জর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে দাওয়া বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন ইয়াহইয়া। অতঃপর বৃত্তি নিয়ে সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাদিস বিভাগে দ্বিতীয় বার স্নাতক সম্পন্ন করেন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় অনেক আত্মীয় তাঁকে বিদেশে যেতে নিষেধ করে। এ সময় ইয়াহইয়ার পিতাও মৃত্যু বরণ করেন। কিন্তু পবিত্র নগরী মদিনার টানে তিনি মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। এ ব্যাপারে ইয়াহইয়া বলেন, ‘মদিনাতে আমি জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আনন্দঘন সময় কাটিয়েছি। সেখানে গিয়ে হাদিসের গ্রন্থগুলো মুখস্থ করেছি। শরিআহ বিষয়ে অনেক অধ্যয়ন করেছি। কোরআন নিয়ে গবেষণা করেছি। অনেক কষ্ট ও চ্যালেঞ্জ ছিল সেখানে, তবে সব সময় আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন।’

জর্দানের সংবাদ সংস্থা পেট্রাকে ইয়াহইয়ার মা বলেন, যেকোনো কিছু বপনের জন্য পরিচর্যার প্রয়োজন। একজন মা হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। আজ ইয়াহইয়া শিক্ষা জীবনের সর্বোচ্চ পর্ব কৃতিত্বে সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁর সাফল্যে জীবনের পরতে পরতে পাওয়া দুঃখ-কষ্টগুলো আজ আমরা ভুলে গিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ প্রদত্ত সবকিছুই সুন্দর। ইয়াহইয়া আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার। সে খুবই তীক্ষ্ম মেধার অধিকারী। তাই এতদূর পর্যন্ত সে আসতে পেরেছে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি তাঁর সেবায় থাকব যেন সে তাঁর সব উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে।

স্নতকোত্তরের থিসিস উপস্থাপনের সময় সুপারভাইরজার বলেন, এমন কীর্তিমান আত্মত্যাগী মাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। জর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিআহ ফ্যাকাল্টির প্রধান ড. আদনান আসসাফ বলেন, ‘ইয়াহইয়ার এই সাফল্যের পেছনের কারিগর পিতা-মাতার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁরা ইয়াহইয়ার জন্য অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রাম করেছেন। তাঁরাই সমাজের আদর্শ পিতা-মাতা। দ্বিন ও জাতির জন্য তাঁরা ফলবান বৃক্ষ রোপন করেছেন।’

 

সূত্র: জর্দান নিউজ এজেন্সি

এক টাকার শিক্ষক লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
রামেক ইন্টার্ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ পদের ৪টিতেই শিবির সমর্থিতদ…
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
রাড্ডায় স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত, গর্ভবতী মায়েদের পাশে ছাত্রদল…
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা …
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
খামের ওপর থেকে মুজিব শতবর্ষের সীল সরাতে পারেননি, জুলাই সনদ …
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
৫ লাখ টাকাই লাগবে, এটা ভিপি নুরের নির্দেশ, অডিও ভাইরালের পর…
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬