‘আমায় ছেড়ে কোথায় যাবে ইরফান! ও তো আমার মধ্যেই আছেন। কোথাও যায়নি’, ইরফান খানের মৃত্যুর একদিন পর তাঁর স্ত্রী এবং লেখক সুতপা শিকদার ফেসবুকে স্বামীকে নিয়ে এমনই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া পোস্ট শেয়ার করলেন। ইরফানের সঙ্গে তোলা পুরনো একটি ছবি পোস্ট করে নিজেকে এবং অনুরাগীদের বার্তা দিয়েছেন, হেরে যাননি তিনি। কিচ্ছু হারাননি। স্বামীর স্মৃতিই তাঁর আগামী দিনে চলার পাথেয়। যা আঁকড়ে তিনি অপেক্ষা করবেন স্বামীর কাছে পৌঁছোনোর জন্য।
অসংখ্য চলচ্চিত্রপ্রেমীকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ইরফান খান। কোলনে সংক্রমণের কারণে মঙ্গলবার রাতেই মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে। এর আগে ‘পিকু’ ছবির অন্যতম এই অভিনেতা বেশ কয়েক মাস ধরে মস্তিষ্কের টিউমারের সঙ্গে লড়াই করেন এবং কয়েক মাস আগে লন্ডনে চিকিৎসা শেষে মুম্বইয়ে ফিরে আসেন তিনি।
ইরফান খান রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী সুতপা ও দুই ছেলেকে। মঙ্গলবারই অভিনেতা ইরফানের মৃত্যুর খবর চাউর হয়ে যায়। যদিও সেই সময় অভিনেতার মুখপাত্র জানান যে, ইরফান খানকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি বেঁচেই আছেন। এই খবর শুনে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও আশ্বস্ত হয়েছিলেন ইরফান প্রেমীরা।
কিন্তু শেষরক্ষা হল না, শুধু শোকের সময় বোধহয় একটু পিছলো। বুধবার মেঘলা সকালেই এল সেই দুঃসংবাদ, সকলকে ছেড়ে, পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের তুখোড় ওই অভিনেতা।
মঙ্গলবার সন্ধেবেলায় এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ইরফান খানের মৃত্যু হয়েছে। এরপরেই অভিনেতার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান: ‘হ্যাঁ, এটা ঠিক যে কোলন ইনফেকশনের কারণে ইরফান খানকে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা সবাই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। উনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ওনার অসম্ভব মানসিক শক্তি এবং সাহস ওঁকে এই পর্যন্ত সমস্ত লড়াই লড়তে সহায়তা করেছে। আমরা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রার্থনাকে সম্বল করে এই আশায় রয়েছি যে তিনি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’ সেই সময় ইরফানের স্ত্রী সুতপা শিকদার ও তাঁর ছেলে বাবিল ও আয়ান খান হাসপাতালে ছিলেন বলে জানা গেছে।
‘পিকু’ অভিনেতার মাথায় ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে, এরপরেই তিনি এই জটিল রোগের চিকিৎসা করার জন্যে লন্ডনে চলে যান। পরে তিনি ‘অ্যাংরেজি মিডিয়াম’ ছবির শুটিং করতে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিছুদিনের জন্যে দেশে ফিরে আসেন। শুটিং শেষে ফের লন্ডনে উড়ে যান তিনি।
এরপর সকলকে আশ্বস্ত করে লন্ডনে মাথার টিউমারটির অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা করিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতে ফিরে আসেন অভিনেতা। সবাই অপেক্ষা করছিল আবার কবে সেলুলয়েডের পর্দায় তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয়ের ঝলক দেখা যাবে। কিন্তু নিজের অনুরাগীদের শোকে পাথর করে দিয়ে অকালেই চলে গেলেন ইরফান খান। খবর: এনডিটিভি।
জীবনযুদ্ধ শেষ, ৫৩ বছর বয়সেই চলে গেলেন ইরফান খান
বুধবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা ঋষি কাপুর (জরংযর কধঢ়ড়ড়ৎ)। সংবাদমাধ্যমকে গতকাল জানিয়েছেন অভিনেতার বড় ভাই রণধীর কাপুর। দীর্ঘদিন ধরেই ৬৭ বছরের ঋষি ভুগছেন ক্যান্সারে। টানা এক বছর নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা চলার পর ২০১৯-এ তিনি রোগমুক্ত হয়ে মুম্বই ফেরেন। কিন্তু মাঝেমধ্যেই সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। খবর, বুধবার সকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় এইচ এন এন রিলায়েন্স হাসপাতালে ফের ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে। যদিও পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছিল, সেই সময় ঋষির অবস্থা স্থিতিশীল। ঋষির মৃত্যুর খবর টুইটে প্রথম জানান বলিউডের আরেক মহীরুহ অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। পরে সংবাদমাধ্যমকে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানান রণধীর কাপুর।