দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বুধবার যে সংখ্যাটা ছিল ২৭, বৃহস্পতিবার বিকেলে তা ৩৮ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে আরও ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৪ জন।
এছাড়া, আরএমএল হাসপাতালে মারা গেছেন পাঁচজন, এলএনজিপি হাসপাতালে তিনজন ও জগ প্রবেশ চন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে দিল্লি পুলিশের এক হেড কনস্টেবল ও একজন ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর কর্মী রয়েছেন।
আশঙ্কা করা হচ্ছে নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ, উত্তর–পূর্ব দিল্লির উপদ্রুত এলাকাগুলোর সব জায়গায় এখনো পুলিশ ও অন্যরা পৌঁছাতে পারেনি। ইট, ছুরি, গুলি ও লাঠি–রডের ঘায়ে মারাত্মক আহত ৪৬ জন এখনো বিপদমুক্ত নন। মুস্তাফাবাদ থেকে অ্যাসিডে আক্রান্ত ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এঁদের কেউ কেউ দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন।
গত সপ্তাহে টানা পাঁচদিন ধরে তাণ্ডব চলেছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ পরে রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়, যার বলি হলেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
দাঙ্গার সময় অসংখ্য দোকানপাট, বাড়িঘর, স্কুল পুড়িয়েছে দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া জানিয়েছেন, ওই সময় অন্তত ৭৯টি বাড়ি এবং ৩২৭টি দোকানে আগুন দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, মামলা হয়েছে ৬৫৪টি। এর মধ্যে অস্ত্র আইনে মামলা চারটি। দাঙ্গায় আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ।