ভারতে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভে এখন বেকায়দায় বিজেপি সরকার। পুরো দেশে যে গণবিস্ফোরণ ঘটেছে তাতে অশনি সংকেত দেখছে মোদি-অমিতের দল। তাই এনআরসি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিল ক্ষমতাসীন বিজেপি। সরকারি বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে এনআরসি করার কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপনের ভাষ্য, ভারতে এনআরসি করার কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। যদি কখনো দেশজুড়ে এনআরসির ঘোষণা হয়, এমন পরিস্থিতিতে নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনে সেটি করা হবে যাতে কোনো ভারতীয় নাগরিক অসুবিধায় না পড়েন।
হিন্দু ভোটের মেরুকরণ করতে গিয়ে উল্টো দল বিপাকে পড়েছে বলেই মত অনেক বিজেপির নেতার। তাই এই বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশবাসীকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে বিভ্রান্তি এড়াতে দেশটির সংবাদ পত্রিকাগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে।
এর আগে পার্লামেন্টের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংশয়ের কোনো কারণ নেই। গোটা দেশেই এনআরসি হবে। সেই ঘোষণার পরই বিজেপি এমপিরা ভারতজুড়ে এনআরসি তৈরির দাবিতে সরব হন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞাপনে এনআরসি নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কে ঠিক? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না কেন্দ্রের বিজ্ঞাপন!
পার্লামেন্টে কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ না করলেও, এ মাসের শুরুতে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অমিত শাহ নির্বাচনী প্রচারে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশে এনআরসি তৈরি করে ফেলা হবে। প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জি কিষেন রেড্ডিও জানান, এনআরসি নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়নি, বিষয়টি কবে হবে কেউ জানে না।