গাজার এক মায়ের বর্ণনা 

'ফল দেখতে-খেতে কেমন, আমার চার বছরের ছেলে সেটা জানেই না'

২৩ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৮ PM , আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৪:০৬ PM
ক্ষুধার্ত এক গাজা শিশু

ক্ষুধার্ত এক গাজা শিশু © সংগৃহীত

গত পাঁচ মাস ধরে আমরা কোনো আমিষ খাইনি। আমার ছোট ছেলের বয়স চার বছর। কিন্তু সে জানেই না যে ফলমূল আর সবজি দেখতে কিংবা খেতে কেমন। কথাগুলো বলছিলেন গাজা শহরে পাঁচ সন্তান নিয়ে বসবাসরত ৪১ বছর বয়সী নারী রীম তৌফিক খাদার। (খবর বিবিসি)

গাজার দুর্ভিক্ষে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষের ঘোষণা অনেক দেরিতে এসেছে, কিন্তু তবুও এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

জাতিসংঘ-সমর্থিত এক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো গাজা উপত্যকার কিছু অঞ্চল জুড়ে দুর্ভিক্ষের ঘোষণার পর সেখানকার বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভয়াবহ ক্ষুধা কীভাবে তাদের শরীরে প্রভাব ফেলছে।

জাতিসংঘ বলছে, গাজার সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েল ব্যাপকভাবে বাধা দিচ্ছে।

তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। গাজা জুড়ে অঞ্চলে যে অনাহার চলছে, সে কথাও ইসরায়েল অস্বীকার করেছে, যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী, একশোর বেশি মানবিক গোষ্ঠী ও জাতিসংঘের একাধিক সংস্থার বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।

আরও পড়ুন: ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা মে-জুনে, হবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ-সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন বা আইপিসি বলেছে, গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় ‘সম্পূর্ণভাবে মানবসৃষ্ট’ দুর্ভিক্ষ চলছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, গাজা উপত্যকার পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ এখন ‘ক্ষুধা, চরম দারিদ্র্য ও মৃত্যুর" মতো "বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইসরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। 
ছবির ক্যাপশান,ইসরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। 

ছয় সন্তানের মা রাজা তালবেহ ২৫ কেজি ওজন হারিয়েছেন। গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় তার বাড়ি ছিল। কিন্তু এক মাস আগে তিনি তা ছেড়ে চলে এসেছেন। এখন তিনি সমুদ্রের ধারে একটি অস্থায়ী তাঁবুতে থাকছেন।

তার শরীর গ্লুটেন, মানে শস্য জাতীয় খাবার সহ্য করতে পারে না। তাই বাজারে বা আশেপাশে তার খাওয়ার মতো খাবার খুঁজে পাওয়াটা এখন কঠিন বিষয় হয়ে গেছে।

যুদ্ধের আগে একটি দাতব্য সংস্থা আমাকে গ্লুটেন-মুক্ত খাবার পেতে সাহায্য করতো। কারণ ওই খাবার কিনে খাওয়া আমার সাধ্যের বাইরে ছিল,‘ বলেন তিনি।

‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমার যা দরকার, আমি তা বাজারে পাই না। আর পেলেও কিনতে পারি না। প্রতিদিন বোমাবর্ষণ, বাস্তুচ্যুত জীবন, গরম ও শীত থেকে রক্ষা করতে পারে না এমন এক তাঁবুতে এভাবে থাকা, এর ওপর আবার দুর্ভিক্ষ, এগুলো কি যথেষ্ট নয়?’

২৯ বছরের রিদা হিজেহ জানান, তার পাঁচ বছরের মেয়ে লামিয়ার ওজন ১৯ কেজি থেকে নেমে সাড়ে দশ কেজি হয়ে গেছে। তিনি বলেন যে যুদ্ধের আগে লামিয়ার কোনো রোগ ছিল না।

‘সবকিছুই হয়েছে কেবল দুর্ভিক্ষের কারণে,’ তিনি বলেন।

‘একটি শিশুর খাওয়ার মতো কিছুই নেই। কোনো সবজি নেই, ফল নেই।’

লামিয়া এখন পা ফোলা, চুল পড়া ও স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছে।

‘সে হাঁটতে পারে না। আমি বহু ডাক্তারের কাছে গিয়েছি, ক্লিনিক-হাসপাতাল ঘুরেছি। তারা সবাই বলেছে, আমার মেয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে। কিন্তু তারা কেউ কিছু দেয়নি। না চিকিৎসা, না কোনো সহায়তা,’ তিনি বলেন।

'ইউকে-মেড' নামের একটি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থার হয়ে গাজায় কাজ করছেন ব্রিটিশ নার্স ম্যান্ডি ব্ল্যাকম্যান। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন, প্রসবের আগে ও প্রসব-পরবর্তী অবস্থায় যেসব মায়েরা ক্লিনিকে আসেন, তাদের ৭০ শতাংশের শরীরে অপুষ্টি ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে।

‘ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের আকার ছোট হচ্ছে এবং তারা বেশ নাজুক,’ তিনি বলেন।

২০২৩ সালের সাতই অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস আক্রমণ করেছিলো। তখন ইসরায়েলে এক হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস।

আরও পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হলে দায়ীদের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলে দেবো: উপাচার্য

সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায়ই ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালানো শুরু করে, যে অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২৭১ জন 'দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে' মারা গেছে, যাদের মধ্যে ১১২ জন শিশু।

গাজা শহরের বাসিন্দা আসিল বলেন, ‘পাঁচ মাস আগে আমার ওজন ছিল ৫৬ কেজি। আজ আমি মাত্র ৪৬ কেজি।’

তিনি জানান, তিনি মাসের পর মাস ধরে কোনো ফল বা মাংস খাননি এবং বেঁচে থাকার জন্য প্রায় সব সঞ্চয় খরচ করে ফেলেছেন।

আসিল তার ননদের সাথে থাকেন। ননদের এক মাস বয়সী সন্তান আছে একটি।

‘সে (ননদ) মরিয়া হয়ে সাশ্রয়ী দামে শিশুদের গুঁড়া দুধ খুঁজছে,’ তিনি বলেন।

তিনি জানান, যদি এটি পাওয়া যায়ও, এর প্রতি ক্যানের দাম পড়ে ১৮০ শেকেল বা ৩৯ ইউরো।

‘আমার কাছে কোনো খাদ্য মজুদ করা নেই, এক-দুই সপ্তাহের মতোও না,’ তিনি যোগ করেন।

‘হাজারো মানুষের মতো আমরাও দিন গুণে বেঁচে আছি।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার শাইমা আল-ওবাইদি বলেন, ‘এখানে বসে এই (দুর্ভিক্ষের) ঘোষণাটিকে আপনার চমকপ্রদ কোনো তথ্য মনে হবে না।’

বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে আল-ওবাইদি বলেন, দোসরা মার্চ রমজান মাসে হঠাৎ করে সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাজায় ছিলেন।

আগের দিন, ‘অফিসে এত গুঞ্জন ছিল যে অবশেষে লেটুস বাজারে এসেছিল এবং সেদিন ইফতারের জন্য তারা কী সালাদ তৈরি করবে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল’।

‘কয়েকদিনের মধ্যেই কোনো ধরণের প্রোটিন বা মাংস পাওয়া যায়নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোনো তাজা ফল এবং কোনো তাজা শাকসবজি ছিল না এবং এক মাসের মধ্যে কোনো ময়দা ছিল না। যদি ময়দা পাওয়াও যেত তবে তা স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে পাওয়া যেত,’ তিনি বলেন।

‘মানুষ ঘাস খাচ্ছিল, তারা পাতা খাচ্ছিল’, এর সঙ্গে তিনি আরও বলেন–– শিশুরা তাকে বলেছিল ‘তারা চায় তারা মারা যাক, যাতে তারা বেহেশতে গিয়ে খাবার খেতে পারে’।

এই প্রতিবেদনটি করতে সহায়তা করেছেন ফ্রেয়া স্কট-টার্নার ও ক্যারোলিন হাওলি

তারুণ্যের চোখে ঈদ: ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মিলনের বহুরঙা অনুভ…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
‘চাকরির বয়স ৪০ বছর, এই প্রথম কোনো শিক্ষার্থীর হাতে আমাকে মা…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা: নৈতিকতার কণ্ঠ কি আরও জো…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাবিসাসের আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম অ…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
রমজানের সংযমে ঈদের আনন্দ: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদের তারিখ ঘোষণা করল তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence