© সংগৃহীত
পাকিস্তান অন্তত ৩০ লাখ আফগান শরণার্থীকে তার মাটি থেকে শিগগিরই এবং দ্রুত গণ বহিষ্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবানের কূটনীতিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ইসলামাবাদে তালেবান দূতাবাস গতকাল বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। খবর ভয়েস অফ আমেরিকার।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে পুলিশের অভিযান চলছিল। এ অভিযানে আইনিভাবে বসবাসরত শরণার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেষপর্যন্ত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, অদূর ভবিষ্যতে কেবল ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি নয়, পুরো দেশ থেকেই সমস্ত আফগান শরণার্থীকে বহিষ্কার বা বহিষ্কারের একটি চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আফগান কূটনৈতিক মিশন জানায়, পাকিস্তান তার সর্বশেষ শরণার্থী নির্বাসন পরিকল্পনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সরকারকে অবহিত করেনি। এতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের দুই শহর থেকে আফগান নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারের পেছনের কারণ সম্পর্কে দেশটির সরকারের কাছে বেশ কয়েকবার কূটনৈতিক ভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
ভয়েস অফ আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি বহুস্তরীয় পরিকল্পনা অনুমোদন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। এর প্রায় তিন সপ্তাহ পরে তালেবান তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়। ইউএনএইচসিআর অনুমোদিত রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা পিওআরএস-সহ ১৪ লাখের বেশি শরণার্থী রয়েছে, যাদের পাকিস্তান ৩০ জুন, ২০২৫ পর্যন্ত দেশটিতে থাকার অনুমতি দিয়েছে।
এছাড়া অন্তত ৯ লাখ নিবন্ধিত অর্থনৈতিক অভিবাসী রয়েছে। তারা আফগান সিটিজেনশিপ কার্ডধারী। পাশাপাশি ৪০ হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশে পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে।
পাকিস্তানে অবৈধভাবে বসবাসকারী রয়েছে অনেক। তাদের মধ্যে অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ। তাদের সম্পর্কে তালেবান দূতাবাস জানিয়েছে, বৈধ আইনি ভিসাধারী আফগান নাগরিকদেরই ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে বলে তাদের জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা।
ইউএনএইচসিআর নিশ্চিত করেছে যে, পাকিস্তান সরকার বৈধ ভিসাধারী ব্যতীত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত আফগান শরণার্থীকে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।