তাজমহলের পেছনের অংশে জমেছে যমুনার পানি © সংগৃহীত
৪৫ বছর পর যমুনা নদীর পানি আগ্রার তাজমহলের দেওয়াল ছুঁয়েছে। গতকাল সোমবার (১৭ জুলাই) স্মৃতিস্তম্ভটির পেছনের একটি বাগান ডুবে গেছে যমুনার পানিতে। নদীর পানির স্তর ৪৯৭ দশমিক ৯ ফুটে পৌঁছেছে, যা বন্যার নিম্নস্তর ৪৯৫ ফুটকে ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারি বর্ষণে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আগ্রার দশেরা ঘাটসংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধির বাইরের অংশেও পানি প্রবেশ করেছে। রামবাগ, মেহতাববাগ, জোহরাবাগ, কালা গুম্বাদ এবং চিনি কা রৌজার মতো স্মৃতিস্তম্ভগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তবে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এই স্মৃতিস্তম্ভগুলোর এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বন্যার পানি তাজমহলের তলদেশে প্রবেশ করেনি।
আরও পড়ুন: সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ, বছরে দেবে ২৭ লাখ টাকা
তিনি আরও জানিয়েছেন, তাজমহলের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে বন্যার পানি এর তলদেশে প্রবেশ করতে পারে না। মথুরায় যমুনার পানির যেই স্তর ছিল তা সমাধিটির জন্য বিপদচিহ্ন ছিল। তবে সেই পানি নেমে গেছে।
তাজমহলের এএসআইয়ের সংরক্ষণ সহকারী প্রিন্স বাজপেয়ী জানান, ‘তাজমহলটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে প্রবল বন্যার সময়ও পানি মূল সমাধিতে প্রবেশ করতে পারে না। এর আগে ১৯৭৮ সালে যমুনার পানি তাজমহলের পেছনের দেয়ালে স্পর্শ করেছিল। তাজমহলের পেছনের বাগানটি কয়েক দশক আগে তৈরি করা হয়েছিল, কারণ যমুনার জলস্তর নেমে যাওয়ায় ওই জায়গাটি খালি করেছিল।’
১৯৭৮ সালে যমুনার জলস্তর ৫০৮ ফুটে উঠেছিল। এটি আগ্রায় উচ্চ স্তরের বন্যা ছিল। পানির স্তরটি তাজমহলের বাসাই ঘাট বুর্জের উত্তর দেয়ালে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সময় স্মৃতিসৌধের বেসমেন্টের ২২টি কক্ষে পানি প্রবেশ করেছিল।