২ হাজার বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে যে স্কুল

১০ জুলাই ২০২৩, ০৩:৫৪ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৯ AM
চেংডু শিশি মিডল স্কুল

চেংডু শিশি মিডল স্কুল

মানবসভ্যতার অন্যতম ধর্ম হলো এটি ক্রমবিকশিত হয়। আর এই ক্রমবিকাশের মূলে রয়েছে শিক্ষা। সভ্যতার শুরুতে শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার রূপ যেমন ছিল তা পর্যায়ক্রমিক বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান আধুনিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বিশ্বে এখনও এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা হাজার বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে।

বিশ্বে বর্তমানে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম ধরা হয় চীনের শিশি হাই স্কুলকে। উইকিপিডিয়া তথ্য অনুযায়ী চীনের সিচুয়ান রাজ্যের চেংদুতে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৪৩-১৪১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি হান রাজবংশের গভর্নর ওয়েন ওয়েং নির্মাণ করেছিলেন।

চীনা ভাষায় শিশি বলতে পাথরের ঘর বোঝানো হয়। বিদ্যালয়টি পাথরে নির্মিত হওয়ায় এক শিশি বা পাথরের চেম্বার বলা হয়। এছাড়া, স্কুলটি ওয়েনওয়েং শিশি বা ‘ওয়েন ওয়েংয়ের পাথর চেম্বার’ নামেও পরিচিত। বিদ্যালয়টি প্রায় ২ হাজার বছরে তিনবার বিধ্বস্ত এবং পুননির্মিত হয়েছে।

প্রথমবার হান রাজবংশের সময় স্কুলটি আগুনে বিধ্বস্ত হয়েছিল। এরপর এটি ১৯৯ খ্রিস্টাব্দে পুনর্নির্মাণ করা হয়। চীনের সাম্রাজ্য রাজবংশের সময় শিশি স্কুলকে  ইইঝো ঝৌক্সু, চেংডু ফুক্সু নামেও ডাকা হত।১৭ শতকে, মিং রাজবংশের পতনের সাথে সাথে ঝাং জিয়ানঝং এর বিদ্রোহী বাহিনী সিচুয়ানকে ধ্বংস করে দেয় এবং স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যায়।

আরো পড়ুন: ইবি ক্যাম্পাসে বেড়েছে ঝোঁপঝাড়, সাপ ও মশার উপদ্রপ

১৬৬১ সালে, কিং রাজবংশের প্রথম দিকে স্কুলটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং সিচুয়ানের প্রথমসারির একটি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। ১৭৪০ সালে এই বিদ্যালয়েই সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০২ সালে প্রবর্তিত নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে বিদ্যালয়টিকে প্রথমে চেংডু নরমাল স্কুল এবং পরবর্তীতে চেংডু মিডল স্কুলে নামকরণ করা হয়।

১৯৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটিকে আবার চেংডু শিশি মিডল স্কুল নামকরণ করা হয় এবং ১৯৪৮ সালের মাঝামাঝি দেশব্যাপী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মডেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বরে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর, স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে চেংডু ৪ নং মিডল স্কুল করা হয়। 
চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়, বিদ্যালয়টি তৃতীয়বারের মতো বিধ্বস্ত হয় এবং কিং রাজবংশের কোনো ভবনই এখন আর বিদ্যমান নেই। ১৯৮৩ সালে বিদ্যালয়টিকে আবারো শিশি মিডল স্কুল নামকরণ করা হয়।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি চীনের শীর্ষ ১০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে। স্কুলটি প্রতি বছর স্থানীয় এবং প্রতিবেশী উভয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে আবেদন আহ্বান করে এবং কঠোর বাছাইপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তির সুযোগ পান। চীনের জুনিয়র মিডল স্কুল সমাপনী পরীক্ষায় সেরা ১০ শতাংশের প্রায় সবাই শিশি শিক্ষার্থী।

ট্যাগ: চীন
এমসিসির মর্যাদাপূর্ণ আজীবন সদস্যপদ পেলেন তামিম
  • ২৯ জুন ২০২৬
তিনবার বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত রুয়েটের নাঈম কবির
  • ২৯ জুন ২০২৬
নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবী…
  • ২৯ জুন ২০২৬
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি রুখবে কে? চাপের মুখে টেক জায়া…
  • ২৯ জুন ২০২৬
ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেলের মহড়া, শিল্প এলাকায় আ…
  • ২৯ জুন ২০২৬
বাংলাদেশি এক চিকিৎসকের ফিলিস্তিনের গাজায় যাওয়ার গল্প
  • ২৯ জুন ২০২৬