উৎসব আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত
পটনস্থ মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে সবকিছুর কেন্দ্রে ছিলেন আমেরিকান প্রবাসী বক্সার জিনাত ফেরদৌস। তাকে ঘিরেই ব্যস্ত ছিলেন ৩১তম জাতীয় সিনিয়র পুরুষ ও সপ্তম মহিলা বক্সিং টুর্নামেন্ট কাভার করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীরা। জিনাত যখন দেশসেরা বক্সার আফরা খন্দকারকে হারিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করছিলেন, সে সময়ই ঘটে যায় বিতর্কিত এক ঘটনা, যা পুরো টুর্নামেন্টে নতুন এক কলঙ্ক লেপন করেছে।
৫৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে হেরে গিয়ে চেয়ারে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির বক্সার উৎসব আহমেদ। তার চোখমুখ জুড়ে বিষাদের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রতি ভুটানে চার জাতির বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি বক্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বর্ণপদক জয়ের ইতিহাস গড়েন তিনি। তবে জাতীয় আসরে হেরে গিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন। অবশ্য পক্ষপাতিত্ব, কারচুপি এবং বাজে জাজমেন্টের অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷
উৎসবের দাবি, ‘বিদেশে চ্যাম্পিয়ন হই, আর দেশে চ্যাম্পিয়ন হতে পারি না। আমি জিতেছি, কিন্তু আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
যদিও কেবল উৎসবই নয়, আনসারের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও ফলাফলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন।
তাদের দাবি, কিছু সিদ্ধান্ত ছিল একেবারে পক্ষপাতদুষ্ট।
ঘটনা এমন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন একপর্যায়ে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দলের খেলোয়াড়রা পুরো প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছিল। আর রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আনসারের বক্সার জাহিদুল ইসলাম প্রতিবাদ হিসেবে রিংয়ে বসে পড়েন।তবে যদি কিন্তু আর অজানা বেশ কিছু কারণে টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারেনি তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলীয় কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি। এমনকি আনসারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও খেলোয়ারদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বল প্রয়োগ করেছেন। এতে ফের খেলার সিদ্ধান্ত নেয় তারা, তবে এ ঘটনার অভিঘাত তাদের মানসিকতায় স্পষ্ট।
এই ঘটনা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন কোচদের হস্তক্ষেপে পুরস্কার নিতে মঞ্চে ওঠে আনসার দলের খেলোয়াড়রা, তবে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন উৎসব। একাধিকবার তার নাম ডাকা হলেও পুরস্কার (রৌপ্য পদক) গ্রহণের মঞ্চে ওঠেননি তিনি। ফাইনালে হারের পর ক্ষোভ আর হতাশায় এই প্রতীকী প্রতিবাদের পথ বেছে নেন তিনি। প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও এই ঘটনায় উৎসবকে সাধুবাদ জানান তারই একাধিক সতীর্থ।
তবে পক্ষপাতিত্ব-এর বিষয়টিকে সেফ উড়িয়ে দিয়েছেন বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস। অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রেফারি-জাজরা নিরপেক্ষভাবেই সব সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। এখানে কোনো পক্ষপাত হয়নি। বিজিত দল/ব্যক্তি এ রকম অভিযোগ তোলেন।’
উৎসবের অভিযোগ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘উৎসব আমার কাছে আসেনি। তার সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি। আনসারকে আমরা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা সেটি মানছিল না।’
উল্লেখ্য, জাতীয় বক্সিং প্রতিযোগিতায় দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ১৭টি স্বর্ণ, পাঁচটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ জিতে সেরা হয় তারা। এর মধ্যে পুরুষ বিভাগে ১২টি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ এবং মেয়েদের বিভাগে পাঁচটি করে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং একটি ব্রোঞ্জ রয়েছে।
অন্যদিকে রানার্সআপ আনসার জিতেছে ৬টি স্বর্ণ, ১১ রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ। এর মধ্যে পুরুষ বিভাগে একটি স্বর্ণ, ৬ রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জ এবং মেয়েদের বিভাগে ৫টি করে স্বর্ণ ও রুপা রয়েছে।
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব উল আলম। এ সময় বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এমএ লতিফ খান, সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান জজ ভূঁইয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়জুর রহমান ভূঁইয়া। পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় ২৫টি ওজন ক্যাটাগরিতে ৭২ দলের ১৭৮ বক্সার অংশগ্রহণ করেন।