দিনটি নারীর একার নয়, বরং দু’জনেরই

দিনটি নারীর একার নয়, বরং দু’জনেরই
গুগলের ডুডল  © ইন্টারনেট

যথারীতি অন্যান্য দিবসের মতো আজও গুগল তার ডুডল প্রকাশ করেছে। তবে আজ সোমবার (৮ মার্চ) নারী দিবস উপলক্ষে ডুডলে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন একটি চিত্র। দিবসটি শুধু স্ত্রী লিঙ্গের জন্য হলেও নারী ও পুরুষের মুষ্টিবদ্ধ কয়েক জোড়া হাত আজ সারদিন শোভা পাচ্ছে গুগলে।

নারী-পুরুষ একতা আর সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠাই নারী দিবসের মূল লক্ষ্য এটিই হয়তো বোঝাতে চেয়েছে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই সার্চ ইঞ্জিন গুগল। সমাজে লিঙ্গভেদে এই মানুষ দু’জন যে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং একে অন্যের পরিপূরক তা আবারো মনে করিয়ে দিলো ডুডলটি।

এই দিবস উপলক্ষে বা বিভিন্ন সময়ে ‘নারীকে মানুষের মর্যাদা দিন’এই লাইনটি প্রায়শই বলতে শোনা যায়। বিভিন্ন বিলবোর্ড, অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও প্রতিবেদন কিংবা নানা অবস্থানের নারীদের দাবিতে প্রকাশ পায় ‘তারা মানুষের মর্যাদা চান’। অথচ সমাজে একজন পুরুষকে কিন্তু তার স্বজাতিক মর্যাদা নিয়েই খুশি থাকতে দেখা যায়। কখনো দেখা যায় না একজন পুরুষ বলছেন, তিনি পুরুষ নয় মানুষের মর্যাদা চান।

তাহলে এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে একজন নারী কেন তার নারী পরিচয়ে খুশি নয় বা নারী পরিচয়টি কম মর্যাদার মনে করছেন কেন? যেখানে পুরুষ তার মানুষ পরিচয়ের থেকে লিঙ্গ নির্ধারিত পরিচয়টিতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য পেয়ে থাকেন সেখানে একজন নারী কেন নন? কারণ এই সমাজ আসলে কখনো একজন পুরুষকেও মানুষের মর্যাদা দেয়নি। আর সত্যিটি সর্বদাই চাপা রেখেছে মিথ্যে পুরুষত্বে গল্পে।

এই সমাজে পুরুষ শব্দটি সর্বদাই শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক। একজন পুরুষ হবেন রাগী, দৃঢ়, শক্তিশালী, কঠিন ও ক্ষমতাবান। এটিই সমাজে পুরুষের চিরাচরিত ফ্রেম। আর নারী হবেন বিনয়ী, কোমল, নরম, ধের্য্যশীল ও পরনির্ভরশীল। নারী-পুরুষের ভিন্ন দু’টি ফ্রেমই পুরুষকে নারীর প্রতি চড়াও হওয়ার অলিখিত অনুমতি দিয়ে গেছে সেই আদিকাল থেকে। অথচ উপরে বর্ণিত কোনো বৈশিষ্ট্যই লিঙ্গকেন্দ্রিক নয়।

দেখা যায় জীবনে চলতে সব মানুষের মাঝেই রাগ, বিনয়, দৃঢ়তা, কোমলতা, শক্তি, কাঠিন্য, ক্ষমতা, ধের্য ও নির্ভরশীলতা এই বৈশিষ্ট্যগুলো সমানভাবে সময় ও পরিস্থিতিভেদে পরিলক্ষিত হয়। তবুও লিঙ্গের নামে প্রতিনিয়তই নারী ও পুরুষ উইভয়কেই মানুষ হিসেবে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষা-দীক্ষা ও যোগ্যতায় এগিয়ে যাওয়ার পরও নারীকে মানসিক লড়াইটা এখনো চলিয়ে যেতে হয় তারই পরিবারের সব থেকে কাছের পুরুষটির সাথে।

যতদিন না পুরুষ তার তথাকথিত মিথ্যে পুরুষত্বের খোলসটাকে ছুড়ে ফেলে মানুষ হিসেবে বাঁচতে শিখছে আর নারী কোমলতা ও কাঠিন্যের সমন্বয়ে অর্থনীতি, ব্যবসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য জ্ঞানের পথে সমান তালে হাঁটছে ততদিন গুগলের ডুডলে দেখানো সেই মুষ্টিবদ্ধ নারী-পুরুষের হাত স্বপ্নই থেকে যাবে।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ