ইপিজেড নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে পরিবেশবিধ্বংসী ইট!

২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৩ AM
ইপিজেড নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে পরিবেশবিধ্বংসী ইট!

ইপিজেড নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে পরিবেশবিধ্বংসী ইট! © টিডিসি ছবি

পটুয়াখালীতে নির্মাণাধীন আধুনিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রকল্পে পরিবেশবিধ্বংসী পোড়ামাটির ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ইট দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইপিজেড এলাকার সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে বিপুল পরিমাণ পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে ইটভাটার বিস্তারের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ইপিজেডের মত একটি আন্তর্জাতিক মানের শিল্প প্রকল্পে এমন নির্মাণ পদ্ধতি ভবিষ্যতে পরিবেশ ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ (সংশোধিত) আইন-২০১৯ অনুযায়ী, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে পোড়ামাটির ইট ব্যবহার নিষিদ্ধ। আইন অনুযায়ী, এসব কাজে কংক্রিট ব্লক, অটো ব্রিকসসহ পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেই আইন অমান্য করেই পটুয়াখালীর ইপিজেড প্রকল্পে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, পোড়ামাটির ইট তৈরিতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ও অন্যান্য উৎস ব্যবহারের ফলে ব্যাপক বায়ুদূষণ ঘটে। একই সঙ্গে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের নির্মাণ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, বর্তমানে নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব ব্লক ও অটো ব্রিকস সহজলভ্য। এসব উপকরণ উৎপাদনে কাঠ বা জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না, ফলে বন উজাড় ও বায়ুদূষণ অনেকাংশে কমে যায়। বিপরীতে পোড়ামাটির ইট ব্যবহারে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

পরিবেশ বান্ধব পর্যটন সংরক্ষণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, সরকারি প্রকল্পে ইট ব্যবহারের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। ইপিজেডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পে যদি পরিবেশ আইন মানা না হয়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতের জন্য খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল বলেন, সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ইপিজেড প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে উপ-প্রকল্প পরিচালক শাহিদুল ইসলাম জানান, ব্লকের সংকট থাকায় আপাতত ইট ব্যবহার করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যান্য ইপিজেড প্রকল্পে সম্পূর্ণ ব্লক ব্যবহার করেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর এলাকায় প্রায় ৪১০ একর জমির ওপর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ইপিজেড গড়ে তোলা হচ্ছে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রায় এক হাজার চারশ’ তেতাল্লিশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে এখনই প্রশ্ন উঠেছে এই উন্নয়ন কতটা টেকসই হবে।

ভারতের অধিকাংশ পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করল ইইউ
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইউনিটপ্রধানদের কর্মস্থল ছাড়তে লাগবে আইজিপির অনুমতি
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
মুড়ি-বাতাসা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় এনসিপির প্রার্থী
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালার-ধন মিয়ার গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, ১১ নারী গ্রে…
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইপিজেড নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে পরিবেশবিধ্বংসী ইট!
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬