এমদাদুলের মতো মেধাবীদের মনের যন্ত্রণা রাষ্ট্র বুঝবে না

০২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৫৩ AM
শরিফুল হাসান

শরিফুল হাসান © ফাইল ফটো

দেশের পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ্যালয়গু‌লোর শিক্ষক নি‌য়োগের অ‌নিয়ম নিয়ে কম বে‌শি অনেকবার বলেছি, লিখেছি। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে ক্ষমতাশালীরা যা দেখালো সেটা রী‌তিমত নতুন আবিস্কার। ক্ষমতা থাকলে কতো কিছু করা যায়! কষ্ট লাগগছে এমদাদুল হকের জন্য, যার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন। আর করুণা সেই ক্ষমতাশালী অমানুষদের জন্য যারা এভাবে মানুষের স্বপ্ন কেড়ে নেন।

এমদাদুল ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণীবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। তিনি বিভাগের সর্বোচ্চ ৩.৮৮ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম শ্রেণী‌তে প্রথম হন। মাস্টার্সে ৩.৯৬ সিজিপিএ পেয়ে আবারও প্রথম শ্রেণী‌তে প্রথম হন। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক র্জানালে তার তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। শিক্ষা জীবনের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকও পেয়েছেন ২০১৫ সালে। ওই বছর বাংলাদেশ জুলজিক্যাল সোসাইটি পদকও পেয়েছেন তিনি। তবে এতো কিছু পারলেও শিক্ষক নিয়োগের ভাইভায় আসতে পারেন‌নি এমদাদুল।

ঘটনা কী শুন‌বেন? প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদের নিয়োগ পরীক্ষার দিতে ২৭ মার্চ মৌখিক পরীক্ষা দিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গেলে ক্ষমতাশালীরা আসেন। তারা মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তার দেখা হয়। তারা এমদাদুলকে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া যাবে না। কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আপনি তো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরীক্ষা দিতে আসেননি। এখানে যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসছে প্রত্যেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। ছোট ভাইদের কিছু আর্থিক দাবি-দাওয়া আছে, তা আপনাকে মেটাতে হবে। তা না হলে আপনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।’

কী দারুণ বাংলা‌দেশ? এরপর? এমদাদুল কোনো দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে সেখানেই তাকে মারধর শুরু করে পরণের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে পকেট থেকে দু’টি মোবাইল ফোন ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয় বীর সন্তানেরা। এমদাদুল জীবন বাঁচা‌তে দৌড় দি‌লে তাকে ধাওয়া করে ধরে আবারও পেটানো হয়। এরপর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে পু‌লিশে দেয়া হয় শি‌বির বলে। ওইদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানা হাজতে আটকে রাখার পর কোনো ধরণের শিবির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এমদাদুলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ততোক্ষণে নিয়োগ পরীক্ষা শেষ।

এবার শুনবেন আই‌নের শাসনের কথা? ঘটনার পর হাটহাজারী থানা মামলা নেয়‌নি। এরপর এমদাদুল চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পুরো ঘটনা উল্লেখ করে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

আমি জানি না মামলার কী হ‌বে? বিচার কী হবে? আমার শুধু অবাক লাগছে, এমদাদুল ভাইভা দিলে কী হ‌তো? বাংলাদে‌শে বহু প্রথম হওয়া ছে‌লে শিক্ষক হ‌তে পারে‌নি। এর বদ‌লে বহু র‌দ্দি মাল ক্ষমতার জোরে শিক্ষক হয়েছে। এমদাদকেও সেভাবে বাদ দেয়া যেত। কিন্তু তা না করে তাকে পি‌টিয়ে মারধর করে শি‌বির আখ্যা দেয়া কেন?

এমদাদুলের জন্য ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে দেশটার জন্য। এমদাদুল আর তার মতো হাজারও মেধাবীর মনোজগতে কী যন্ত্রণা হচ্ছে সেটা এই রাষ্ট্র বুঝবে বলে আমার মনে হয় না। বোঝার দরকারও নেই। এর বদলে সোনার সন্তানদের পুরষ্কৃত করা হোক। কারণ শিক্ষক নিয়োগে এ নতুন এক আবিস্কার! দেশের সব পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে এই পদ্ধ‌তি প্রবর্তনের জোর দা‌বি জানা‌চ্ছি।

লেখক: সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী।

জেবিএবির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহ জাহান
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
একাদশে ভর্তি সময়সীমা ও নীতিমালা চূড়ান্ত হতে পারে আজ
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
কম্পিউটারে অ্যাপ ইন্সটল ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব থেকে হবে ভিড…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা বদলির প্রস্তুতি নিলেও মাদ্রাসার ব্যাপ…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর:…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬