বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনীতির জায়গা নয়

এমআইএসটি-বিইউপিতে তো ছাত্ররাজনীতির দাবি জানানোর সাহস দেখি না
৩১ মার্চ ২০২৪, ০৯:৪৯ AM , আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:১২ PM
ড. মো. কামরুল হাসান মামুন

ড. মো. কামরুল হাসান মামুন © ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ৩টা সেরা কলেজের নাম বলতে গেলে প্রথমেই আসবে নটর ডেম কলেজ। তারপর আসবে হলিক্রস ও সেন্ট জোসেফ। এই ৩ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে চাইলে কি করতে হবে? শুধুমাত্র রাজনীতি চালু করতে হবে।

এক সময় ঢাকা কলেজ আর নটরডেম কলেজের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা ছিল। রাজনীতি ওটাকে শেষ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বলতে গেলে বুয়েটের নাম সবার আগে আসে। এই বুয়েটকে নষ্ট করতে চাইলে দরকার ওখানে পুরোদমে রাজনীতি চালু করা।

বাংলাদেশের দুটি বড় দল যেই ছাত্রদের দিয়ে যেই রাজনীতি করায় এই রাজনীতি যদি হার্ভার্ড, এমআইটি কিংবা ক্যামব্রিজ বা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয় সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানে নেমে আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকার ফল কি হয়েছে? একটি মাত্র দল রাজনীতি করবে। সেই দলের ছাত্রদের কীভাবে সমীহ করতে হবে, জোর করে মিছিলে নামাতে বাধ্য করতে গেস্ট রুমে ডেকে এনে ছাত্র হয়ে ছাত্রদের টর্চার করে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি মানে ক্যাস্ট্রেটেড হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যাবে না। এখনকার ছাত্রনেতারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শুধু ভুলে যায়নি কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মেরেধরে থামিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষায় বরাদ্দ কমালে ছাত্রনেতারা এখন আনন্দ মিছিল করে। ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ার জন্য ন্যূনতম একটা পড়ার টেবিল পায় না, ঘুমানোর জন্য একটা বিছানা পায় না, ভালো মানের খাবার পায় না।

বুয়েটে এখন যারা ছাত্র রাজনীতি চালু করার কথা বলছে তারা কি কখনো এইসবের জন্য দাবি জানিয়ে কোন আন্দোলন করেছে। জোর করে বিরোধীদলকে থামিয়ে নিজেরা একচ্ছত্র রাজনীতি করার নামই কি ‘ছাত্র রাজনীতি করার অধিকার’?

এমআইএসটি এবং বিইউপি— ওগুলোওতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ওখানেতো ছাত্র রাজনীতি খোলার দাবি জানানোর সাহস দেখি না। ও দুটো প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র ছাত্র রাজনীতি না থাকার কারণে একটা সুষ্ঠু পরিবেশ আছে, যেটা নিয়ে ওখানের ছাত্ররা এবং তাদের অভিবাবকরা খুশি।

কেউ কেউ বলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির অনুপস্থিততে কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো গোপনে ঢুকে যায়। এক্ষেত্রে উদাহরণ দেয় বুয়েটকে। আরো বলে ছাত্র রাজনীতি হয়তো একটা ক্যাম্পাসকে রুগ্ন করে দেয়, কিন্তু মৌলবাদ একটা দেশকে বিধ্বস্ত করে দেয়।

এই বক্তব্যের সাথে আমি একদম একমত নই। একটা খারাপকে আরেকটা খারাপ দিয়ে মোকাবিলা একদম ঠিক না এবং করা যায় না। খারাপকে প্রতিস্থাপিত করতে হবে ভালো দিয়ে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি আমাদের কত মেধাবীর মেধার অপচয় ঘটিয়েছে তার হিসাব কি কেউ করেছে? কত মেধাবীর জীবন গেছে তার হিসাব কি কেউ করেছে?

ছাত্রদের স্কলারশিপ দিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করুন। ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, সামাজিক কর্মকান্ড ও খেলাধুলা বেশি করে চালু করুন। এসবের মাধ্যমেই ছাত্রছাত্রীরা সত্যিকারের মানবিক নেতৃত্ব শিখে। আমাদের দেশের এখন যেই রাজনীতি বিদ্যমান এই রাজনীতি দিয়ে ছিনতাই শিখে, মারামারি শিখে, ধান্দাবাজি শিখে বড় হয় যা কর্মজীবনেও জারি রাখে।

ছাত্র রাজনীতি দিয়েই যদি কট্টর ধর্মান্ধপন্থী সংগঠনগুলোকে ঠেকানো যেত তাহলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব আছে কীভাবে? ছাত্রলীগ-ছাত্রদল কি এসব থামাতে পেরেছে বা তাদের মিশন কি এসব থামানো? পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অসুস্থ রাজনীতি নষ্ট করে দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটা রাজনীতি করার জায়গা না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হলো কারিকুলারের অংশ আর খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকান্ড হলো এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটিজের পার্ট। এসব এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটিজ ছাড়া একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে পারে না।

কিন্তু যেরকমভাবে আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতি গত ৩০-৪০ বছর যাবৎ দেখছি এর মাধ্যমে কেবল লেখাপড়া বিঘ্নিত হতে দেখি, মেধাবীদের মেধার মৃত্যু দেখি। ছাত্র দ্বারা ছাত্র হত্যা দেখি। বিশ্বের কোন দেশের কোন ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব নাই। আসলে এই দুটো এক সাথে এক স্থানে থাকতে পারে না। আমাদের দেশই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

আজ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি না থাকতো আমি হলফ করে বলতে পারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক অনন্য উচ্চতায় উঠে যাবে। কেউ একে দাবায়ে রাখতে পারবে না। হ্যাঁ আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করতে পারবে, সাংস্কৃতিক এক্টিভিটিজ করবে, বিভিন্ন এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটিজ করবে এবং এসবের মাধ্যমেই নেতৃত্ব শিখবে।

দলান্ধতা আর ক্ষমতা লিপ্সু রাজনৈতিক নেতাদের চামচামি করে নেতৃত্ব শেখা যায় না বরং নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

চলতি সপ্তাহেই নতুন ভিসি পেতে যাচ্ছে ইবি-বেরোবি
  • ১০ মে ২০২৬
আর কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পা…
  • ১০ মে ২০২৬
সেঞ্চুরি করা আওয়াইসকে ফিরিয়ে স্বস্তি আনলেন তাসকিন
  • ১০ মে ২০২৬
চাঁদপুরে অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ৪ 
  • ১০ মে ২০২৬
দেশের ১৫ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা প্রয়োজন মেটাতে পারেন না
  • ১০ মে ২০২৬
বাউবির ভিসি অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমানকে ঢাবিতে সংবর্ধনা
  • ১০ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9