গুচ্ছে থাকা কিংবা না থাকা- অর্থ না বিবেক?

১০ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:১২ PM , আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৭ AM
ভর্তি পরীক্ষার্থী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম

ভর্তি পরীক্ষার্থী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম © ফাইল ফটো

আগে অল্প কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, তখন গুচ্ছ পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল না। এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি।  প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যদি এই ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে হয় আর প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফি এক হাজার ৫০০ টাকা করে পঞ্চাশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফি দিতে হবে ৭৫ হাজার টাকা, প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত ও থাকা খাওয়ার খরচ গড়ে ২ হাজার টাকা করে হলেও একজন শিক্ষার্থীকে এবাবদ খরচ করতে হবে আরো এক লাখ টাকা। ভোগান্তির কথা না হয় বাদই দিলাম। একজন শিক্ষার্থীকে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করতে হবে ভর্তিযুদ্ধ নামে জুয়া খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য অথবা হাল ছেড়ে দিতে হবে অসহায় হয়ে। 

যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা নেয়, স্বীকার করুক আর নাই করুক -এটা তাদেরকে একটা বড় অংকের অর্থ এনে দেয়। উদাহরণস্বরুপ, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ১৫০০ টাকা হলে এবং ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রী ভর্তি পরীক্ষা দিলে মোট আয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ভর্তি পরীক্ষার খরচ ছাত্রপ্রতি গড়ে ১০০ টাকা (শিক্ষকদের পরিশ্রম ও খাওয়া দাওয়া বাদে) হলে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাগাভাগির অংশ ৭ কোটি টাকা। শিক্ষকপ্রতি আয় ৫০~৬০ হাজার থেকে শুরু করে ২/৩ লাখ টাকায় গিয়ে পৌঁছে । এটি লোভনীয় হতেই পারে। 

গুচ্ছে থাকলে শিক্ষকদের এই ভাগটা অনেক কমে যায়। কিন্তু একবার ভাবুন তো, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত। অনেকে গরীব। আর এই গরীব নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ছেলেমেয়েদের অসহায় করে অর্জিত এই টাকা কতটা বিবেক সচেতন আয়? আপনি একবার ভাবেন তো, কতজন গরীব ছেলে মেয়ে আপনার আমার এই আয়ের কারণে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় - একটি বা দুটি পরীক্ষা দিয়ে অসহায় হয়ে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে থাকে। সৃষ্টিকর্তা তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে যদি প্রাকৃতিক প্রতিশোধ নেয় তবে কি করার থাকবে আমাদের?

যারা গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যেতে চান, তারা শিক্ষকদের মধ্যে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন। কি হাস্যকর, তাই না? শিক্ষকরা কেন গুচ্ছের পক্ষে মত দিবে- কেউ কি ব্যাখ্যা করে বলতে পারবেন? জরিপ চালাতে হলে ছাত্রদের মাঝে জরিপ চালান, অভিভাবকদের মাঝে জরিপ চালান। কেউ হয়তো দাবি করবেন যে শিক্ষকগণ বিবেক সচেতন -ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে জরিপে উত্তর দেন।  তাদের যুক্তি বড়ই ঠুনকো।  তাহলে কোন যুক্তিতে বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে একজন ছাত্রছাত্রীর নিকট হতে ১ ঘন্টার এমসিকিউ পরীক্ষার ফি ১৫০০ টাকা নেন, কোন যুক্তিতে একজন ছাত্রছাত্রীকে ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঠেলে দেন? আপনার বিবেক কেন নাড়া দেয় না?

গুচ্ছ পরীক্ষায় সমস্যা থাকতে পারে, যদি থাকে তার দায়দায়িত্ব কিন্তু শিক্ষকদেরই। আপনারা সবাই মিলে কেন একটা গ্রহণযোগ্য শিক্ষার্থী বান্ধব গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করতে পারছেন না? কোনটা অভাব আপনাদের- জ্ঞান নাকি সদিচ্ছা?

গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাওয়া কোন বীরত্ব নয়, নিজ স্বার্থে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। আপনি হয়তো ভাববেন, আপনি গুচ্ছে থাকবেন না, অন্যরা থাকুক। তাহলে মনে রাখতে হবে, কেউ দেশপ্রেমিক হলে তার অংশ কিন্তু আপনার প্রাপ্য নয়। গুচ্ছ থেকে সরে গেলে আপনার শ্রেষ্ঠত্ব নয়, বরং আপনার দেশপ্রেমে দেওলিয়াত্বই কেবল প্রকাশিত হয়।

লেখক: উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি।

লেখা: লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত

চলতি সপ্তাহেই নতুন ভিসি পেতে যাচ্ছে ইবি-বেরোবি
  • ১০ মে ২০২৬
আর কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পা…
  • ১০ মে ২০২৬
সেঞ্চুরি করা আওয়াইসকে ফিরিয়ে স্বস্তি আনলেন তাসকিন
  • ১০ মে ২০২৬
চাঁদপুরে অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ৪ 
  • ১০ মে ২০২৬
দেশের ১৫ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা প্রয়োজন মেটাতে পারেন না
  • ১০ মে ২০২৬
বাউবির ভিসি অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমানকে ঢাবিতে সংবর্ধনা
  • ১০ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9