সন্তান হারানো নাঈমের বাবার আহাজারী

মৃত্যু
নটর ডেম কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম  © সংগৃহীত

রাজধানী কামরাঙ্গীরচরে নাঈম তার পরিবারের সাথে থাকতেন। নাঈমের বাবা ছিলেন একজন অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকতা। টানাপোড়েনের সংসারে অমিত প্রতিভা আর মেধাবী সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল তাদের জন্য। সন্তানের মৃত্যুতে তার দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। হারিয়ে ফেলেছে তাদের নিজের সকল আশা আর ভবিষ্যৎ।

সন্তান হার নাঈমের বাবা বললেন, নাঈম নেই, আমার আর প্রতিদিন ৭ কিলোমিটার হাঁটতে হবে না। আর কার জন্য হাঁটব।

তিনি বলেন, নাঈমের পকেট খরচ জোগাতে প্রতিদিন ৭ কিলোমিটার পথ হেটে নীলক্ষেতে এসে দোকান চালাতাম। এতে বাঁচত ১৬০ টাকা। এই টাকা তুলে দিতাম নাঈমের হাতে, তার কলেজে যাওয়ার খরচ হিসেবে।

নাঈমের বাবা বলেন, ছেলে বিরিয়ানি খেতে খুব ভালোবাসত। বুধবার ওর মা বিরিয়ানি রেঁধে ফ্রিজে রেখে দিয়েছিল- ছেলে কলেজ থেকে এসে খাবে। এখন সেই বিরিয়ানি কে খাবে! খুব শরবতও পছন্দ করত ছেলে। এসব কথা মনে পড়লে কীভাবে নিজেকে সামলাব?

তিনি বলেন, নটর ডেম কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমি ছেলেকে আনা-নেওয়া করতাম। মর্নিং শিফটের ক্লাস ছিল ওর। ছুটি হওয়া পর্যন্ত কলেজের সামনে বসে থাকতাম। মাসখানেক আগে নাঈম বলল, ও পথ চিনে গেছে। এখন একাকী যেতে সমস্যা হবে না। আর কলেজে আনা-নেওয়া করলে নীলক্ষেতের বইয়ের দোকানে বসতে বাবার দেরি হয়। এ কারণে নিজে নিজে যাওয়া-আসা করছিল। কেন ওকে একা ছাড়লাম।

ছেলের সাথে শেষ কী কথা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি জানান, বুধবার ছেলে কলেজে যাওয়ার সময় নতুন মাস্ক চাইল। আমাকে নতুন মাস্ক খুঁজে দিতে বলল। এটাই শেষ কথা।

নাঈমের একমাত্র ভাই মুনতাসীর মামুন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, এ শোক কীভাবে ভুলব? আজীবন এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে আমাদের।

বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে রাস্তা পার হওয়ার সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী একটি গাড়ি ধাক্কা দেয় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈমকে। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের জাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিকে জিপিএ ৫ পেয়েও নটর ডেম কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। গতকাল সকালে নাঈমের মরদেহ তার দাদাবাড়ি লক্ষ্মীপুরের কাজীরখিলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মা-বাবা, ভাইসহ নাঈমের স্বজনরা এখন গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ

x