যশোর জেনারেল হাসপাতাল © ফাইল ফটো
যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভারতফেরত ১০ করোনা রোগী পালিয়ে গেছেন। শনিবার সকাল থেকে রোববার দুপুরের মধ্যে তারা পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের অবহেলার কারণে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এতে করে করোনার ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ব্রাদার তারকচন্দ্র বিশ্বাস বলেন, শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকাল দশটা ৫৭ মিনিটে ভারতফেরত কিছু রোগীকে ভর্তি করা হয়। এরপর রোববারও রোগী আসে। সবমিলিয়ে দুইদিনে দশজন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের সবাইকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী, ভর্তি রোগীরা হলেন- যশোর শহরের বিমান অফিস মোড়ের আবুল কাসেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫৭), খালধার রোডের বিশ্বনাথের স্ত্রী মালা দত্ত (৫০), সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (১৯), একই গ্রামের একরামের স্ত্রী রোমা (৩০), প্রতাপকাঠি গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মমিন, রামকান্তপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫০), বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের ফজর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫), ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের জনৈক মনোতোষের স্ত্রী শেফালি রানি, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রামরাইল গ্রামের আহম্মদ সানার ছেলে আমিরুল সানা ও একই জেলার রূপসা এলাকার শের আলীর ছেলে সোহেল (১৭)।
করোনা ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স লাবনী বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ভারত থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আসা দশজন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। কিন্তু রোববার (২৫ এপ্রিল) সকালের পর থেকে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী যদি কোনো পরিবারে থাকে তার মাধ্যমে প্রথমে তার পরিবার এবং আশপাশের লোকজনও আক্রান্ত হতে পারেন।
তারা আরও বলেন, করোনার ভারতীয় ধরন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে পালিয়ে যাওয়া রোগীরা যদি ভারতীয় ধরনের বাহক হন তাহলে তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপকুমার রায় সাংবাদিকদের বলেন, আমার জানা মতে হাসপাতাল থেকে দুইজন রোগী পালিয়েছেন। ভারত থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী হাসপাতালে আনা হলে তা পুলিশ এস্কট করে দিয়ে যাবে। একইসাথে তাদের পাসপোর্ট পুলিশ হাসপাতালে জমা করবে। কিন্তু তার কোনোটাই করা হয়নি। কোনো রোগী যাতে পালাতে না পারে সেজন্য বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলবেন বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, রোগী পালানোর কথা শুনে আমি রোববার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে কথা হয়েছে। যে দশজন রোগী পালিয়েছে, তাদের নাম ঠিকানা সঠিক থাকলে তাদের খুঁজে বের করা সম্ভব। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
এই বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনার রোগী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাকে কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।