নতুন করে আরও স্বীকৃতি পাচ্ছেন ৯৭১ বীর মুক্তিযোদ্ধা

নতুন করে আরও স্বীকৃতি পাচ্ছেন ৯৭১ বীর মুক্তিযোদ্ধা
  © সংগৃহীত

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নতুন করে আরও যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের ৯৭১ জন। তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও এতদিন তাদের নামে কোনো গেজেট জারি বা সনদ ইস্যু করা হয়নি। ফলে তারা এতোদিন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের পর পুনঃযাচাই শেষে তাদের গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ জামুকার ৭৩তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরপরই সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসবেন তারা।

খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও জামুকার চেয়ারম্যান আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জামুকার সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।’

সূত্র আরও জানায়, মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গেজেটভুক্তির জন্য ২০১৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে ১ লাখ ২৩ হাজার ১৫৪ জন এবং সরাসরি ১০ হাজার ৯০০ জন আবেদন করেন জামুকায়। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সারা দেশে ৪৭০টি উপজেলা/ জেলা/ মহানগর কমিটি গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এর মধ্যে ৩৮৫টি তাদের প্রতিবেদন জমা দিলেও সদস্যদের দ্বন্দ্ব এবং কমিটি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় ৮৫টি কমিটি কাজ করতে পারেনি। প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে উপজেলা, জেলা কিংবা মহানগর কমিটি তিন ধরনের খসড়া তালিকা তৈরি করে।

তালিকায়  ‘ক’ তালিকা হচ্ছে যাচাই-বাছাই কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত তালিকা। ‘খ’ হচ্ছে কমিটির দ্বিধাবিভক্ত মতের ভিত্তিতে করা তালিকা। ‘গ’ হচ্ছে কমিটির নামঞ্জুর করা তালিকা। যাচাই ‘ক’ তালিকার ২৬ হাজার ৯৪২ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়। বাকি আবেদনগুলো নামঞ্জুর করা হয়। সেখান থেকে ৩৫ হাজার ৫৯৯ ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হয়ে জামুকায় আপিল আবেদন করেন। আবেদন অধিকতর যাচাই-বাছাই করতে প্রতি বিভাগে একটি করে ৮টি কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের কমিটির প্রতিবেদনে ৯৭১ জনের বিষয়ে গেজেট জারির সুপারিশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার ঘোষণা দিলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। তবে বর্তমানে তারা মাসে ১২ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাচ্ছে। এর বাইরে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার মাসিক ৩৫ হাজার টাকা, বীর উত্তমদের মাসিক ২৫ হাজার টাকা, বীর বিক্রমদের ২০ হাজার টাকা, বীর প্রতীকদের মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা ও সর্বনিু ২৫ হাজার টাকা এবং শহিদ পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা ভাতা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা হারে মহান বিজয় দিবস ভাতা এবং সব মুক্তিযোদ্ধার অনুকূলে মূল ভাতার ২০ ভাগ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা দেয়া হচ্ছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ