আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র © ফাইল ফটো
রাজধানীর সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৮ বছর আজ। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় পোশাক কারখানাটির নয়তলা ভবনের ছয়তলা ভস্মীভূত হয়ে যায়। সরাসরি আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান ১০১ জন পোষাক শ্রমিক ও আগুন থেকে রেহাই পেতে ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আরও আরও ১০ জনসহ মোট ১১৭ জনের মৃত্যু হয়।
ভয়াবহ সেই ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করলেও আট বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। নির্ধারিত সময়ে সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় মামলাটির বিচার থেমে আছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সাত বছরেও তাজরীনের বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। শ্রমিক নেতা ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন গণমাধ্যকে বলেন, মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। আদালত থেকেও তেমন চাপ নেই। এ ধরনের ক্ষেত্রে যে সহানুভূতিশীল হয়ে এগিয়ে যাওয়া দরকার, তা নেই। আমরাও (শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো) যেভাবে লেগে থাকা দরকার, তা করতে পারিনি। যখন দিবস আসে তখন মনে হয়, অনেক কিছু করা দরকার। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। অন্যদিকে আহতদের যথাযথ চিকিত্সা ও পুনর্বাসন দরকার। তারা যাতে টিকে থাকতে পারে, এজন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, তাজরীন ফ্যাশনস কারখানাটি ২০০৯ সালে চালু হয়। কারখানাটিতে প্রায় ১ হাজার ৬৩০ জন কাজ করতেন। কারখানাটি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি টি-শার্ট, পোলো শার্ট এবং জ্যাকেট তৈরি করত, যাদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন মেরিনস, ওলন্দাজ কোম্পানি সি এন্ড এ, মার্কিন কোম্পানি ওয়ালমার্ট এবং হংকংভিত্তিক কোম্পানি লি অ্যান্ড ফুং।
এই কারখানাটি বাংলাদেশের অন্যতম পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তুবা গ্রুপের অংশ ছিল যারা জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং নেদারল্যান্ডসে পোশাক রপ্তানি করত। তাজরীন ফ্যাশনসের প্রধান ক্রেতা ছিল ওয়ালমার্ট, কারেফোর এবং আইকিয়া।