© প্রতীকী ছবি
কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মত অনলাইনে ভার্চুয়াল মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম আদালতে গঠিত দুটি কোর্টে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭টি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫টি মামলায় ১০ জনের জামিন হয়েছে।
এদিকে রাজশাহীতে ভার্চুয়াল কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনজীবীরা। রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভা কক্ষে বিশেষ সাধারণ সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোর্ট বর্জনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীদের প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সমস্যা ও ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে জ্ঞান না থাকা। পরে অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কুড়িগ্রাম কোর্ট-১ পরিচালনা করেন বিজ্ঞ বিচারক মো. শেফাত উল্লাহ এবং কোর্ট-২ এ ছিলেন অপর বিজ্ঞ বিচারক মো. সুমন আলী।
অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন জানান, মহামান্য হাইকোর্ট থেকে পরিপত্র জারি হওয়ার পর কুড়িগ্রামে ২টি কোর্টে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। আমি গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত ইমেইলে ৬টি মামলার শুনানির আবেদন করি। আমার পাশাপাশি কুড়িগ্রাম জজকোর্টের আরো একজন আইনজীবী একটি শুনানীর আবেদন করেন।
তিনি আরও বলেন, আজ বুধবার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত জুম অ্যাপসের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে বিজ্ঞ বিচারক শুনানি পরিচালনা করেন। এতে আমার একটি জমিজমা সংকান্ত মামলায় ২৯ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতদের নামে একটি মামলা রুজু করা হয়।
তিনি জানান, সেই মামলায় চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল অজ্ঞাত সন্দেহে ৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এতদিন তাদেরকে হাজতবাস করতে হয়েছে। এই ভার্চুয়াল শুনানির ফলে তাদেরসহ অন্য মামলায় আরো ৬জনকে আমি জামিনে মুক্ত করা হয়েছে।
পটুয়াখালীতে আইনজীবীদের ভার্চুয়াল আদালত বর্জন
পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা ভার্চুয়াল আদালত বর্জন করেছেন। সমিতির আইনজীবীদের অধিকাংশই তথ্য-প্রযুক্তি ও স্মার্টফোনে পারদর্শী নন। করোনাভাইরাসের কারণে কম্পিউটারের দোকান বন্ধ থাকা, ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সংযোগ নিয়ে সঙ্কট থাকায় আইনজীবীগণ ভার্চুয়াল আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ওবায়দুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, করেনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী লকডাউন থাকায় বিচার প্রার্থীদের কথা বিবেচেনা করে সরকার ভার্চুয়াল আদালত চালু করলেও আইটি বিষয়ে অধিকাংশ আইনজীবী পারদর্শী না হওয়ায় আমরা এটি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।