© ফাইল ফটো
করোনার বিস্তারের মধ্যেও তৈরি পোশাক কারখানা খোলায় ও দোকানপাটে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, দোকানপাটও হয়তো খুলে যাবে। এ বিষয়ে কমিটি যে সুচিন্তিত পরামর্শ দেবে তা যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তারপর সরকারের নির্দেশনাঅনুযায়ী কাজ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যু হচ্ছে, তার জন্য দুঃখিত। তবে মৃত্যুর হার অন্য দেশের তুলনায় কম। সংক্রমণ বেড়েছে, গত আট দশদিনে ৪০০-৫০০ করে হচ্ছে। আর এখন সাতশ।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু মার্কেট খোলা হয়েছে, গার্মেন্টস খোলা হয়েছে, দোকানপাটে আনাগোনা বাড়ছে। কাজেই সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে, এটি ধরে নিতে পারি। আমাদের যতটুকু সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবন-জীবিকা দুটোই পাশাপাশি যাবে।’ এসময় যাতে রোগী না বাড়ে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সে চেষ্টা করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ম্যান্ডেট হলো রোগীগুলো যাতে অধিক চিকিৎসা পায়।’
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল থেকে সীমিত পরিসরে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে। আর সোমবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে হাট-বাজার, ব্যবসা/বাণিজ্য, দোকানপাট ও শপিং মল শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে খোলা হবে। প্রতিদিনি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এগুলো খোলা রাখা যাবে।
বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলোয় সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীকে যেন ফিরিয়ে না দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে বলেছে কমিটি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড রোগীদের পাশাপাশি অন্য রোগীদেরও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
এছাড়া চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়া নিয়েও কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কমিটি তাদের আরও উৎসাহ দেওয়া, সমস্য দূর করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঈদের সময় যাতায়াতের বিষয়েও মতামত দেবে এ কমিটি।