করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমন নীরস এক ঈদই অপেক্ষা করছে দেশবাসীর জন্য। ঈদের ছুটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে হবে। শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যই নয়, সবার জন্যই এটা প্রযোজ্য হবে। এ সময় আন্ত জেলা যাত্রী পরিবহনও বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ এখন যে যেই জায়গায় আছে সেখানেই ঈদ পালন করবে।
সোমবার (৪ মে) পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে এসব শর্ত রেখে সরকার ষষ্ঠ দফায় ৭ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে পূর্বঘোষিত সব সরকারি ছুটিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে সাধারণ ছুটি গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৬ মে পর্যন্ত অর্থাৎ টানা ৫৩ দিনে গড়াল।
ছুটির বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণামধ্যমকে বলেন, 'এবার যে যেখানে আছেন, সেখানে থেকেই ঈদ পালন করতে হবে। এই প্রজ্ঞাপন শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নয়, দেশের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।'
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, 'ঈদু ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না।' অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, 'আসন্ন ঈদের ছুটিতে জনগণকে নিজ নিজ স্থানে থাকতে হবে এবং আন্ত জেলা/উপজেলা/বাড়িতে যাওয়ার ভ্রমণ থেকে নিবৃত্ত করতে হবে।'
তবে আগামী ১০ মে রবিবার থেকে দেশব্যাপী 'সীমিত আকারে' ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হচ্ছে, খুলছে দোকানপাট। কিন্তু এই 'সীমিত আকার' বলতে কী বোঝানো হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়নি।
এদিকে ১৬ মে পর্যন্ত গণপরিবহনও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন বিভাগ। অর্থাৎ আন্ত জেলা গণপরিবহন বন্ধের সঙ্গে বড় শহরগুলোতেও কোনো গণপরিবহন চলবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র বলে, যেহেতু গণপরিবহন বন্ধ থাকছে, সাধারণ ছুটির সময় আন্ত জেলা বাস যোগাযোগও বন্ধ থাকবে, তাই দেশের মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাফেরা করতে পারবে না। বড় শহরগুলোতেও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, এটাকেই ‘সীমিত আকার’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।