দিনকে দিন বেড়েই চলছে সর্বনাশা করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাস। নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে এক একটি দেশ, এক একটি অঞ্চল। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে যা এখন চোখ রাঙ্গানী দিচ্ছে বাংলাদেশের উপর। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ২৩টি জেলায় ভাইরাসটি তার অস্তিত্বের জানান দিয়েছে।গাইবান্ধা তাদের মধ্যে একটি।
এ জেলায় এখন পর্যন্ত ৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন অনেকেই। ইতোমধ্যেই গাইবান্ধা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। রংপুর মেডিকেলে স্থাপিত করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার মাধ্যমে তার করোনা পজেটিভ আসে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামকৃষ্ণ বর্মণ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে শালমারা ইউনিয়নের মিরাপাড়া গ্রামে আসেন। করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়া দুইদিন পূর্বে নমুনা সংগ্রহ করে রংপুরে পাঠানো হয়। আজ পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ আসে।শুক্রবারেও নানান গণমাধ্যমে প্রচার হয় করোনার উপসর্গ নিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রিমা খাতুন (১১) নামের এক শিশুর মৃত্যু।
এতো কিছুর পরও যেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মানুষের মাঝে সচেতনতার বড্ড অভাব। রাস্তাঘাটসহ হাট-বাজারগুলোতে মানুষের দিব্যি চলাচল। তরুণদের আড্ডা বসছে মতিঝিলের পাড়, গোবিন্দগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠসহ নানা স্থানে। প্রশাসনের সবাইকে সতর্ক ও জরিমানা করলেও থামানো যাচ্ছে না অবাধ চলাচল। লকডাউনের পরও সচেতন হচ্ছে না গোবিন্দগঞ্জের জনসাধারণ। দোকানপাট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও অনেক জায়গাতে শাটার অর্ধেক খোলা রেখে চলছে কেনা-বেঁচা। প্রশাসনের গাড়ী কিংবা লোক দেখলে যা বন্ধ হয়ে যায়।
সরকার,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যেমন সাহায্যের হাত বারিয়ে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের প্রতি তেমনি গোবিন্দগঞ্জের নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এগিয়ে এসেছে এ বিপর্যয়ে। ঝিলপাড়া রয়েলস্ ক্লাব নামে একটি স্বোচ্ছাসেবী সংগঠন ইতোমধ্যে ১৫৫ টি পরিবারকে ৭দিনের খাবার প্রদান করেছে। ‘দূরন্তপনায় দুর্বার’ নামে ফেসবুকে তারা ফান্ড কালেকশনের জন্য গ্রুপ খোলেন, যেখানে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ৬ নাম্বার ওয়ার্ড কমিশনার রিমন তালুকদার বলেন, আমরা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছা দিচ্ছি। তাদের ঘরে থাকার অনুরোধ করছি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি মানুষকে সচেতন করতে, কিন্তু কিছুতেই মানুষ সচেতন হচ্ছে না। এখন মনে হচ্ছে উপর ওয়ালা গোবিন্দগঞ্জের মানুষের একমাত্র ভরসা।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়। সংখ্যায় ছিল তিন জন। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬২১ জনে দাঁড়িয়েছে । এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। ৩৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।