ড. তাসনিম সিদ্দিকী © টিডিসি ফটো
ভারতে চলমান সিটিজেনশিপ আমেডমেন্ট বিল পাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিফিউজি এন্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করা উচিৎ। অন্যথায় রোহিঙ্গাদের মতো ভারতীয়দেরও মানবিকতার কথা বলে এদেশে আশ্রয় দিতে হবে।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গতি ও প্রকৃতি-২০১৯ অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ শীর্ষক গবেষণাভিত্তিক রামরুর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে ভারতে যাদের নাগরিকত্ব নেই তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে। কিন্তু কথাগুলো যে বদলে যায় তা আমরা আগেও দেখেছি। ভরতে আইন পুরোপুরি প্রয়োগের আগেই অনেককে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবর থেকে আমরা জানতে পেরেছি।
রোহিঙ্গা সমস্যা হবে এটা জানার পরও কোন প্রস্তুতি নেয়া হয়নি যার ফল আমরা এখন পাচ্ছি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পর্ক ভাল রাখার দোহায় দিয়ে প্রস্তুতি না নিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। সরকারের উচিৎ ভারতের ইস্যুতে দীর্ঘ মেয়াদী পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া। কথায় কথায় বিএনপির দোষ না দিয়ে সকলকে এক সাথে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঠিক করা।
কেউ যেন ব্যক্তিগতভাবে এই ইস্যুকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপির উপর দোষ চাপাতে গিয়ে আমরা নিজেদের জন্য একটা বড় বিপদ ডেকে আনবো। ভারতের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে। সবাইকে একটেবিলে বসে একমত হতে হবে। সিটিজেন এ্যাক্টকে খুব ভালভাবে পড়ে এর ফলে আমাদের কী সমস্যা হতে পারে তা খুঁজে বের করে এর সমাধানে কী করণীয় তা ঠিক করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।