জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ © টিডিসি ফটো
সংবিধান পরিবর্তনের অধিকার কেবল নির্বাচিত সরকার এবং জনপ্রতিনিধিদের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে যাদের নির্বাচিত করবেন, তারাই দেশের ভাগ্য ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি নির্ধারণ করবেন। গুটিকয়েক ব্যক্তি বা অন্য কারো রাষ্ট্রীয় সংবিধান পরিবর্তনের কোনো এখতিয়ার নেই।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার এসব কথা বলেন। তিন দিনের সরকারি সফরে ভোলায় পৌঁছালে তাকে পুলিশের একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, এই সনদ নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। কিছু রাজনৈতিক কূটচাল বা একে অপরকে ছোট করার চেষ্টা থাকলেও, বৃহত্তর স্বার্থে দুই দল একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে যেন আর ‘মাফিয়া তন্ত্রের’ পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সব দল একমত। আগামীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
বিএনপি’র অবস্থান প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং সংসদে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছে। জুলাই সনদের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল ভিন্নমত দিলে এবং পরবর্তীতে তারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে সরকার গঠন করলে, সেই নোট অব ডিসেন্ট কার্যকর করার অধিকার তাদের থাকবে।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, তারা কিছু ‘উদ্ভট নিয়ম’ করে গিয়েছিল, যেখানে ব্যক্তির নির্দেশে আপনা-আপনি সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারেনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, সময়মতো টিকা না দেওয়ায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
অদক্ষ লোকের হাতে ক্ষমতা পড়লে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কৃতিত্ব দেন। একই সাথে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই রাষ্ট্র সুন্দরভাবে অগ্রসর হবে এবং জাতি সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।