নবীন ফ্যাশন ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক © সৌজন্যে পাওয়া
নবীন ফ্যাশন বন্ধ ইস্যুতে নবীন হাশেমির দেওয়া বক্তব্য ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার দাবি করেছে দোকান মালিক সমিতি। তাদের দাবি, এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি; বরং দুটি পণ্যের বিপরীতে দুটি ফ্রি (যদিও নবীনের অফিসিয়াল পেজে দুটি কিনলে ৪টি ফ্রি লেখা) দেওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি এমন পরিস্থিতি হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিশাল সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার জাহান।
তিনি বলেন, গতকাল তিনি (নবীন ফ্যাশনের মালিক) যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়। এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন না। মূল ঘটনা হলো, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে এই মার্কেটে তার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এই দীর্ঘ সময়ে এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
দোকান বন্ধের পরিস্থিতি জানিয়ে ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, ঘটনার দিন, ২০ রমজান (রমজানের শেষ দিন), দুপুরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি প্রমোশনাল অফার ঘোষণা করেন। অফারটিতে বলা হয়—দুটি পাঞ্জাবি কিনলে দুটি ফ্রি, বৃষ্টিতে রিকশায় এলে রিকশা ভাড়া প্রদান, এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য অতিরিক্ত ৯৫০ টাকা মূল্যের একটি ‘এরাবিয়ান ইঞ্জিন অয়েল’ ফ্রি দেওয়া হবে।
এ অফারটি ছড়িয়ে পড়ার পর আসরের নামাজের পরপরই বিপুলসংখ্যক ক্রেতা মার্কেটে ভিড় করতে শুরু করেন। প্রায় ২০০-এর বেশি মোটরসাইকেলসহ বিপুলসংখ্যক বাইকার এবং সাধারণ ক্রেতা উপস্থিত হন। এতে করে হঠাৎ করেই মার্কেটে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মার্কেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী এবং থানার পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানের মালিক নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘোষণা দেন যে, মগবাজার শাখায় বাইকারদের জন্য ‘এরাবিয়ান ইঞ্জিন অয়েল’ প্রদান বন্ধ রাখা হবে।
এই ঘোষণা প্রকাশের পর উপস্থিত বাইকারদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। তারা দোকানে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং আশপাশের সড়কেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে দোকানের কর্মচারীরা সামনের শাটার বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে কিছু ক্রেতা ও বাইকার দোকানের পেছনের গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। এতে করে মার্কেটের অন্যান্য দোকানদার ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে মার্কেট ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এ সময় বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। আমি তখন বাসায় ছিলাম, আমাকে ফোনে পরিস্থিতি জানানো হয়। পরে আমি ঘটনাস্থলে এসে মার্কেট কমিটির সভাপতি এবং দোকান মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকানে প্রবেশ করি।
আমরা প্রথমে অত্যন্ত ভদ্রভাবে জানতে চাই যে, রমজান মাসের শেষ দিনে এ ধরনের প্রমোশনাল কার্যক্রম পরিচালনার আগে কেন মার্কেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। আমাদের মার্কেটের নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে—বছরে একবার, সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য এ ধরনের অফার দেওয়া যায় এবং রমজান মাসে কোনো প্রমোশনাল অফার চালু রাখা নিষিদ্ধ।
সারওয়ার জাহান আরও বলেন,
আমরা আরও প্রশ্ন তুলি, দুটি পণ্যের বিপরীতে দুটি ফ্রি (যদিও নবীনের অফিসিয়াল পেজে দুটি কিনলে ৪টি ফ্রি লেখা) দেওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাছাড়া, ইঞ্জিন অয়েল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স তার রয়েছে কিনা—সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
পরবর্তীতে আমরা দোকান থেকে বের হয়ে আসি। কিন্তু এ পর্যন্ত তিনি বা তার পক্ষ থেকে মার্কেট কমিটি কিংবা দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। এই প্রেক্ষিতে আমরা তাকে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছি, যাতে তিনি মার্কেটে এসে আমাদের সঙ্গে বসে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করেন। কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত সে আহ্বানে সাড়া দেননি। অথচ গতকাল তিনি হঠাৎ একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা সম্পূর্ণরূপে সত্যবিবর্জিত।
সারওয়ার জাহান আরও বলেন, আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শনিবার সকাল ১১টায় প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টসহ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করব। সংশ্লিষ্ট সকলকে ওইদিন উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের আগের দিন গত ২০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায়, রাজধানীর মগবাজারে ‘নবীন ফ্যাশন’-এর দোকান বন্ধ করে দেয়। কম দামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান প্রতিবেশী দোকানদাররা। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিও দেখা গেছে।