কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় দোকান বন্ধ
সংবাদ সম্মেলন করেছেন নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক © টিডিসি সম্পাদিত
কমদামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় দোকান বন্ধ করে দেওয়া নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান বলেছেন, মগবাজার দিয়ে আসার সময় অনেক ভয়ে ছিলাম। কেউ আবার শহীদ ওসমান হাদীর মতো আমাকে গুলি করে না দেয়, সেই ভয়ে গাড়ির জানালার পর্দা নামিয়ে এসেছি। এত ভয় নিয়ে আমি এ দেশে কেন ব্যাবসা করবো? ইনসাফভিত্তিক কাজের জন্য যদি বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তবে আমি ব্যাবসা বন্ধ করে আবার প্রবাসে ফিরে যাবো।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে দোকান বন্ধের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এ ব্যবসায়ী। তিনি আরও বলেন, গতকাল থেকে আমাকে বিভিন্ন নম্বর হতে কল করে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তারা বলছে, ভিডিও যা আছে ডিলিট করে দাও। নইলে, ব্যাবসা একটা বন্ধ করে দিয়েছি, আরও যেগুলো আছে সেগুলোও বন্ধ করে দেব।
নবীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, আমি একজন প্রবাসী। করোনার সময় এ দেশে এসে ব্যাবসা শুরু করি। আমাদের টার্গেট হলো ন্যায্য মূল্যে গ্রাহককে ভালো পণ্য সরবরাহ করা। এই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় আমরা গরীব-দু:খী মানুষের কল্যাণে ব্যয় করি। এখানে প্রতিবন্ধী, হিজড়া সম্প্রদায় এবং মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা লোকজন কাজ করে। ফলে আমাদের যারা সাপ্লায়ার, তারাও কম মূল্যে প্রোডাক্ট দেন। আমরা ৩০০ টাকা মূল্যে পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি করি।
সেদিন পাশের দোকানদার প্রিন্স’র মালিক মাইকেল ও অন্যান্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পুলিশসহ আমাদের দোকানটি বন্ধ করে দেয়। কাস্টমারদের হেনস্তা করে। তারা বলে, এই মার্কেটে চার হাজার ৫০০ টাকার কমে পাঞ্জাবি ও ১৫০০ টাকার কমে পাজামা বিক্রি করা যাবে না।
সরকারের কাছে আকুতি করে তিনি বলেন, সরকারকে জানাতে চাই, আমরা অনেক বাধার সম্মুখীন হয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করি। তবে সরকার থেকে কখনও কোনো সহযোগিতা পাই না। আমরা সবসময় নিপীড়িত হয়ে থাকি। যদি সাধারণ মানুষের জন্য নিজ উদ্যোগে কিছু করতেও চাই তখনও আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এর আগে, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে ‘নবীন ফ্যাশন’ নামে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে আশপাশের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। প্রতিবেশী দোকানদাররা কমদামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান। পরে পুলিশের সহায়তায় বিকেলে জোরপূর্বক দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।