সিকৃবি শিক্ষার্থী ‘হত্যাকারী’ সেই চালক ও সহকারীর হত্যা মামলার আসামী থেকে অব্যাহতি প্রদানসহ ৭ দফা দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। পরিবহণ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার শহর। ধর্মঘটের ফলে অফিসগামী কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
সোমবার সিলেট বিভাগসহ জেলা শহর মৌলভীবাজারেও এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আন্দোলনকারীরা পিকেটিং করেছেন। পাশাপাশি আটকে দিচ্ছেন সিএনজি, অটোরিকশা ও টমটমসহ সব ধরনের পরিবহন। পরিবহন সঙ্কটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয় শিক্ষার্থী-পরীক্ষার্থীদের।
শহরের চৌমোহনা এলাকায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকত। তবে এদিনে পরিবহণ ধর্মঘটে চৌমোহনা এলাকায় তেমন যানজট লক্ষ্য করা যায়নি। স্থানীয় নিকটস্থ লোকজন প্রয়োজনীয় কাজে হেঁটে হেঁটে গন্তব্য স্থলে পৌঁছাতে হয়েছে।
এদিকে জানা যায়, শিমুতলা বাজারে আন্দোলনকারীরা সকাল থেকে গাড়ি আটকাচ্ছে। পুলিশ যাওয়ায় আন্দোলনকারীরা পালিয়ে যায়। পরে দুপুর থেকে সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে চলছে একাদশ শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষা। এতে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদেরকেও দল বেধে হেঁটে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছচ্ছেন।
ভুক্তভোগী এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসান জানান, আমি শিমুলতলা বাজার থেকে হেঁটে হেঁটে শহরে আসি। এখন পর্যন্ত কোনো গাড়ি পাইনি। পায়ে হেঁটেই বাকি পথ যেতে হবে মনে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ বিকেলে ঢাকা-সিলেট রোডের মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে উদার পরিবহনের একটি বাসে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাসের সহকারী ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলেই বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ওয়াসিমের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালক ও হেলপারকে আটক করে। সে ঘটনায় অভিযুক্ত ড্রাইভার-হেলপারের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ধর্মঘট করছে পরিবহন শ্রমিকরা।