অ্যাস্ট্রোফিজিক্স' ব্র্যান্ডের অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিন © টিডিসি
দেশে প্রথমবারের মতো কোনো রেলস্টেশনে যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যানিংয়ের জন্য বসানো হলো উন্নত প্রযুক্তির স্ক্যানার। সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের নতুন নির্মিত আইকনিক রেলস্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের 'অ্যাস্ট্রোফিজিক্স' ব্র্যান্ডের অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিনটি বসানো হয়।
কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী জানান, এই স্ক্যানার স্থাপন রেলওয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। স্ক্যানিং চালু হওয়ায় ট্রেনভিত্তিক অপরাধ, বিশেষ করে মাদক পাচার ও চোরাচালান কার্যক্রম প্রতিরোধ সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও জানান, “কক্সবাজার অঞ্চল থেকে মাদক ও চোরাচালান আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
প্রথম দিন থেকেই যাত্রীদের ব্যাগপত্র স্টেশনে প্রবেশের সময় স্ক্যানার মেশিনে রাখতে দেখা গেছে। মূল স্টেশনের প্রবেশমুখে বসানো এই স্ক্যানার পরিচালনা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। স্ক্যানিংয়ের সময় সন্দেহজনক কোনো বস্তু শনাক্ত হলেই ব্যাগ খুলে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্টেশন মাস্টার জানান, মেশিনটি ওষুধ জাতীয় দ্রব্য, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র ও চোরাইপণ্যসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। স্ক্যানারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু বস্তুর উপর সতর্ক চিহ্ন প্রদর্শিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাগেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে যাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় না পড়তে হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখার আশ্বাসও দেন তিনি। এজন্য যাত্রীদের ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে যাত্রী রোহান উদ্দিন বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে অহেতুক হয়রানি না হয়।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজার রেলস্টেশন থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ট্রেন চলাচল করছে। নতুন এই স্ক্যানিং সিস্টেম পর্যটননির্ভর এই শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেলসেবায় যাত্রীদের আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।