ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল © সংগৃহীত
ফরিদপুরের মুহাম্মদ মানিকের (৩৫) বাবার পেটে পানি জমেছে। এ জন্য তিনি তার বাবাকে ভর্তি করেছেন রাজধানীর ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে। তবে তিন দিন ধরে তার বাবার অবস্থার কোনো উন্নতি দেখছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চিকিৎসাসেবায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মানিক বলেন, ‘গত আট দিন ধরে বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি, কিন্তু পদে পদে অবহেলার শিকার হচ্ছি। প্রথম দু-এক দিন চিকিৎসা ভালো পেলেও এখন আর কোনো খোঁজ নেয় না কেউ। ডাক্তারদের ডাকা হলেও তারা সাড়া দেন না। যেন শুনেও শোনেন না, আসার কথা বললেও ঠিকমতো আসেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদের টাকায় ওষুধ কিনতে হয়, তারপরও কেন এই অবহেলা? ডাক্তাররা রিপোর্ট সম্পন্ন করলেও আমরা তা ঠিকমতো হাতে পাই না। সারা দিনে মাত্র একবার ডাক্তার ভিজিট করেন।’
মানিকের বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বাবার পেটে পানি জমেছে, সেটি বের করার জন্য বারবার ডাক্তারদের জানাচ্ছি, কিন্তু তারা গড়িমসি করছে। আজ তিন দিন ধরে তিনি প্রস্রাব করতে পারছেন না, অথচ আমাদের অনুরোধ করলেও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। শুধু পানি বের করলেই বোঝা যেত আসলে কী সমস্যা, কিন্তু ডাক্তাররা ব্যস্ততা দেখায়।’
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, ‘আমাদের এখানে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। আমরা যথাযথ দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি।’
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা যায়।
পেশেন্ট কেয়ার বিভাগের জ্যাতি কুন্ডুকে রোগীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘কেয়ারিং একটি ভিন্ন ব্যাপার। কাউকে কেয়ারিং করে সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। এখানে যে সেবা ও বেড প্রদান করা হয়, তার খরচ ১০০ টাকা। তবে বাইরে এর মূল্য ২০০ টাকা। রোগীর পরিবারগুলো সাধারণত চায় যেন তারা পাঁচ-ছয়জন একসঙ্গে শুয়ে থাকতে পারে, কিন্তু এটি বাস্তবসম্মত নয়।’
তিনি বলেন, ‘এখানে ডাক্তারদের কোনো ভিজিট ফি নেই। সাধারণত মেডিসিন বিভাগে রোগীদের দেখভাল পেশেন্ট কেয়াররাই করে। তবে যদি সার্জারি বিভাগের কাজ হয়, তাহলে বাইরে থেকে ডাক্তার এসে রোগীকে ভিজিট করেন এবং তার জন্য ভিজিট ফি দিতে হয়।’
সব অভিযোগের বিষয়ে জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান স্বাধীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, ‘এখানে যারা আসে, তারা মূলত স্বল্পমূল্যে সেবা পেয়ে থাকে। এখানে রোগীরা এলে আমরা ভালোভাবে রেসপন্স করে বিভাগে পাঠিয়ে দিই। এ কাজে আমাদের চারজন পেশেন্ট কেয়ার নিয়োজিত আছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীরা অনেক সময় ধরে বসে থাকে, কিন্তু আমাদের এখানে পেশেন্ট কেয়াররা খুব দ্রুত সাড়া দিয়ে রোগীদের গ্রহণ করে। রোগীরা অল্প সময়ের মধ্যে সিস্টার ও ডাক্তারকে দেখিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট নিশ্চিত করতে পারে।’
স্বাস্থ্য খাতে কিছুটা সমস্যা থাকবে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, রোগীর আত্মীয়রা একটুতেই এসে নানা ধরনের চেঁচামেচি শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে, সবার ব্যবহার এক রকম হয় না। আমাদের এখানে রোগীদের প্রতি অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।
এই জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ডাক্তারদের একটি মিটিং হয়, যেখানে রোগীদের পর্যালোচনার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। এর পর, ১০টা থেকে ১ টা পর্যন্ত রোগীদের ভিজিট করা হয়। আমাদের এখানে তিনটি ভিজিট করা হয়—একটি ভিজিট ডাক্তাররা করেন, এরপর রেজিস্টাররা এবং মেডিকেল অফিসাররা আরেকটি ভিজিট করেন। রাতে যদি কোনো রোগীর সমস্যা হয়, তাহলে ডাক্তাররা রাতে এসে সেই রোগীর চিকিৎসা করে থাকেন এবং যথাযথ যত্ন নেন।’