সিসিটিভির হার্ডডিক্স খুলে নিলেন সাংবাদিকেরা © টিডিসি ফটো
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের পেটানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ৪ জনসহ প্রায় ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এদিকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানানোই হল প্রভোস্টের কক্ষ থেকে সিসিটিভির হার্ডডিক্স খুলে নিয়েছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকেরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টের কক্ষ থেকে হার্ডডিস্ক খুলে নেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকরা জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় অতর্কিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের শাস্তির আওতায় আনতে হল প্রভোস্টের সহযোগিতা চান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কথা বললেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সিসিটিভি হার্ডডিক্স খুলে নিয়েছেন তারা। ফুটেজ নিয়ে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে জানান তারা।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকরা বলেন, আমরা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে হার্ডডিক্স নিইনি। হামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের কাছে ফুটেজ চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। তাই ফুটেজ যাতে নষ্ট বা পরিবর্তন না করা হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই হার্ডডিক্সটি নেওয়া হয়েছে। ফুটেজ সংগ্রহের পর এটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
রোববার রাতের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলা, দুপুর ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা, হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এমন অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে তাদের।