ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:২১ PM , আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৫, ১২:০১ PM
ইলিশ

ইলিশ © সংগৃহীত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে এবার ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

এতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আমদানি-রপ্তানির কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রককে বিবাদী করা হয়েছে। 

নোটিশে বলা হয়, ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। এই ইলিশ বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। এই ইলিশ যখন সমুদ্র থেকে নদীতে বিশেষ করে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে আসে তখন এটি অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে উঠে। এই কারণে সামুদ্রিক ইলিশের চেয়ে পদ্মার ইলিশ অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু।

এতে আরও বলা হয়, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিশাল ও বিস্তৃত সমুদ্রসীমা রয়েছে। ভারতের জলসীমায় ব্যাপকভাবে ইলিশ উৎপাদন হয়। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে ভারতের ইলিশ মাছ আমদানির কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু ভারত মূলত বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশ আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশে ভারতীয় এজেন্টরা ও মাছ রপ্তানিকারকরা সারা বছর ধরে পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ মজুদ করে রাখে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে পদ্মা নদীর সব ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাচার করে। বাংলাদেশের পদ্মা নদীর সব ইলিশ ভারতে রপ্তানি ও পাচার হ‌ওয়ার কারণে বাংলাদেশের জনগণ বাজারে গিয়ে পদ্মার নদীর ইলিশ পায় না। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জনগণকে সামুদ্রিক ইলিশ খেতে হয়, যা পদ্মার ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়।

আইনি নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে যে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়, তা এই দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট নয়। এ অবস্থায় যদি পদ্মার সব ইলিশ ভারতে চলে যায় তাহলে বাংলাদেশের জনগণ পদ্মার ইলিশ খেতে পারবে না। এভাবে বাংলাদেশের জনগণকে পদ্মার ইলিশ থেকে বঞ্চিত করে ভারতের জনগণকে পদ্মার ইলিশ খাওয়ানো বাংলাদেশের সরকারের জন্য সমীচীন নয়। এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র ভারত থেকে আমদানি করে থাকে কিন্তু ভারত সরকার কখনোই তার নিজের দেশের জনগণের চাহিদা না মিটিয়ে বাংলাদেশে কোন পণ্য রপ্তানি করে না।

বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী ইলিশ মুক্তভাবে রপ্তানিযোগ্য কোন মাছ নয়। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে।

আরও পড়ুন: ভারতে ইলিশ রফতানি নিয়ে মৎস্য উপদেষ্টার ব্যাখ্যা

নোটিশে বলা হয়, ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু বাংলাদেশের আপামর জনগণকে বঞ্চিত করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতির মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে।

উক্ত আইনি নোটিশ পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

ট্যাগ: জাতীয়
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ১১ বিশেষ নির্দেশনা বোর্ডের 
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
বিদায় অনুষ্ঠানে হামলা, ৬ বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
২১ ঘণ্টা সময় পেলেন মনিরা শারমিন
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইবির আবরার ফাহাদ হলের প্রথম প্রভোস্ট অধ্যাপক হাফিজুর রহমান
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
একাত্মতার অনুরণন ২০২৬: উদ্ভাবন, সংযোগ ও উদযাপনের এক অনন্য আ…
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ‘অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার নেপথ্যে কী
  • ২২ এপ্রিল ২০২৬