ফাতেমা আক্তার নীলি © সংগৃহীত
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে ১৬ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নীলিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মিলন হোসেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সোমবার মিলন হোসেনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক রাজু আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের একটি বাসা থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার সময় নীলির মা, বাবা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তার বড় বোন শোভা আক্তার দুপুরে জিম করতে বাসার বাইরে গেলে ওই সুযোগে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে শোভা বাসায় ফিরে রান্নাঘরের মেঝেতে নীলির গলা কাটা মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় সেদিন রাতেই নীলির বাবা মো. সজিব অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নীলির বাবার বাসার সামনে ‘শাহজালাল হোটেল’ নামে একটি খাবারের দোকান রয়েছে, যা তিনি ও তার ছেলে শাকিল কর্মচারীদের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৭ জানুয়ারি জমিসংক্রান্ত কাজে নীলির বাবা মো. সজিব স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে হবিগঞ্জ যান এবং দুই মেয়েকে বাসায় রেখে যান। ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে শোভা জিম সেন্টারে গেলে বাসায় একা থাকে নীলি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শোভা ফিরে এসে নীলির মরদেহ দেখতে পান।
মামলার অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাত এক বা একাধিক ব্যক্তি নীলিকে হত্যা করেছে।