দীঘিনালায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:১২ PM , আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৫, ১২:০৫ PM
পাহাড়ি ও বাঙালির সংঘর্ষ

পাহাড়ি ও বাঙালির সংঘর্ষ © সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালির সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর জেলা সদরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সদরসহ পুরো জেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের গোলাগুলি ও বিকালের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। নিহতরা হলেন- জুনান চাকমা (২০), ধনঞ্জয় চাকমা (৫০) ও রুবেল চাকমা (৩০)।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে অনেককে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালির সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে? স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে দীঘিনালা লারমা স্কয়ার এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ বাধে। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মামুন নামের এক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। 

আহত মামুন বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি সদর উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে দীঘিনালায় বাঙালিরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় পাহাড়িরা মিছিলে বাধা দেন বলে অভিযোগ। তখন সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে পাহাড়ি ও বাঙালিদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে শতাধিক দোকান পুড়ে যায়। 

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে শহরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। রাতভর সেখানে আতঙ্ক বিরাজ করে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের নারানখখাইয়া, স্বনির্ভর এলাকায় ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ধনঞ্জয় চাকমা দীঘিনালায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে মারা যান। 

অপর দুজনকে আহত অবস্থায় রাতে খাগড়াছড়ি সদর থেকে হাসপাতালে আনা হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, রাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ১৬ জনকে আনা হয়। তারা বেশিরভাগই সদর উপজেলা থেকে রাতে এসেছেন। এর মধ্যে তিন জন মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে। 

বর্তমানে হাসপাতালে আরও ৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন। রিপল বাপ্পি চাকমা আরও জানান, রাতেই চার জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজন বাঙালি রয়েছেন। আহত বাকি ৯ পাহাড়িকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহত তিন জনের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন সোহেল চাকমা, মানব ত্রিপুরা, বিজয় চাকমা ও নলেজ চাকমা।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ বলেন, আগুনে দীঘিনালা বাসস্টেশন ও লারমা স্কয়ার এলাকায় ১০২টি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। এর মধ্যে চাকমা সম্প্রদায়ের ৭৮টি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের ২৪টি দোকান রয়েছে। ভাঙচুর হয় চারটি দোকান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মিলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, রাতে গোলাগুলি হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন জনের লাশ পাওয়া গেছে। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ সুপারসহ ঘটনাস্থল দীঘিনালায় যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবো। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
ইরানের পর আরও এক দেশে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
কলেজে তালা ভেঙে চুরি, অধ্যক্ষ কক্ষ থেকে প্রজেক্টরসহ মূল্যবা…
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েলে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ভারত-পাকিস্তানসহ ৪ দেশের নাম
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
বাসের তেল শেষ হওয়ায় রেললাইনে বসে ছিলেন যাত্রীরা, মুহুর্তেই …
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
বাসে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া আদায়, জরিমানা অর্ধলাখ টাকা
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence