শ্রীপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত ১

০৩ আগস্ট ২০২৪, ০৯:১১ PM , আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৫, ১১:০০ AM
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। © সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চন্নাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। তাঁর বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তিনি চন্নাপাড়া গ্রামের মো. কাজল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে ওই গ্রামের মক্কা-মদিনা স্পিনিং কারখানার সামনে লেপ–তোশক তৈরির কাজ করতেন। কাজল মিয়া তাঁর আত্মীয়।

কাজল মিয়া সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, পুলিশ ও বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে জাহাঙ্গীর আলম দোকানে ছিলেন। বেলা তিনটার দিকে তিনি খবর পান, সড়কে জাহাঙ্গীরের লাশ পড়ে আছে। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য মাওনা চৌরাস্তার দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, গুলিতে নাকি পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে পারিনি।

আরও পড়ুন: আনুষ্ঠানিকভাবে এক দফা দাবি ঘোষণা

এদিকে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সংবাদকর্মীরা নিহত ব্যক্তির ভাড়া বাসার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কে বিক্ষোভকারীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা ছবি তোলার সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে ধাওয়া দেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, রাস্তায় পড়ে গিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা ব্যস্ত আছি।

এর আগে বিকেলে শহীদ মিনার থেকে ছাত্র-জনতার গণমিছিল থেকে এক দফা ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগ।

আরও পড়ুন: গণজোয়ারে উত্তাল শহীদ মিনার, তিল ধারণের ঠাঁই নেই

এরপর এক দফা নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার যে গণ বিস্ফোরণে মানুষ এক দফার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। 

যতদিন পর্যন্ত আমাদের এই এক দফা বাস্তবায়ন না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আপনারা যেসব জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পালন করবেন। বিজয় নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে—যুক্ত করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশে এখন পর্যন্ত ২১৬ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী এবং শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের দাবি—এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘এক দফা’কে বিজয়ে পরিণত করুন: সমন্বয়ক হাসনাত

পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্য ও সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ এবং তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় এসব আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের।

এর আগে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার বাতিল চেয়ে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকার সমর্থকরা। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মামলা হয়। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

এনইউবিতে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালিত
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নোবিপ্রবি নিয়ে অপপ্রচার, প্রতিবাদে ৪৯ শিক্ষকের বিবৃতি
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
'ইউটিএল কোনো দলের লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন নয়'
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে: নাহিদ ইসলাম
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতের ওপর হামলার হুম…
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় ছাত্রদল নেতা
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬