অ্যাগনেস ক্যালামার্ড © সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও কিছু দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে একটি খোলাচিঠি লিখেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এই চিঠি অ্যামনেস্টির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠির শুরুতে ক্যালামার্ড লিখেছেন, বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাম্প্রতিক সহিংস দমনাভিযানের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ নিয়ে আমি আপনাকে লিখছি। সহিংসতা বন্ধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং বিক্ষোভের সময় ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
ক্যালামার্ড লিখেছেন, আমরা দেখতে পেয়েছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ওপর থেকে গুলির বেআইনি ব্যবহার, শিক্ষার্থীরা আবদ্ধ স্থানে থাকা অবস্থায় সেখানে কাঁদানে গ্যাসের বিপজ্জনক ব্যবহার এবং এ কে ঘরানার অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্রের নির্বিঘ্ন ব্যবহার হয়েছে।
অ্যামনেস্টি আরও দেখতে পেয়েছে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) সহিংসতা চালিয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন শিক্ষার্থীদেরও ওপর তারা হামলা করেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া চিঠিতে মোট ছয়টি দাবি করেছে সংস্থাটি। এগুলো হলো-
১) অবিলম্বে সম্পূর্ণরূপে কারফিউ তুলে নিন। সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে মানুষেরে সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস পুনরুদ্ধার করুন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে বিক্ষোভ দমনে কারফিউতে ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করার নির্দেশ ও ইন্টারনেট বন্ধ করা হবে না বা অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো লঙ্ঘন করা হবে না এমন নিশ্চয়তা প্রদান।
২) শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রয়োগ করার জন্য যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিন।
৩) আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সংযম অনুশীলন করার নির্দেশ দিন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার না করতে এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করুন। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশিং অনুশীলনের সংশোধন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে মানবাধিকারের মানদণ্ডে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করা।
৪) বিক্ষোভ দমনের সময় নিহত ও আহতদের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ, কার্যকর, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করতে জাতিসংঘের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। বল প্রয়োগের বেআইনি ব্যবহারের জন্য যারা দায়ী তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
৫) বেআইনি পুলিশি সহিংসতার শিকার এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের, যারা আহত হয়েছেন এবং যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার নিশ্চয়তা প্রদান করুন।
৬) বাংলাদেশের সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করুন। এ ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার মতো যেসব আইন বাধা রয়েছে, সেগুলা দূর করুন।