দেশের যেসব স্থানে বৃষ্টি হতে পারে © সংগৃহীত
দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। সঙ্গে আছে অসহনীয় লোডশেডিং। গত কয়েক বছরের তুলনায় গরমের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। গরমে ঘেমে-নেয়ে ঘরে বাইরে হাঁস-ফাঁস করছে মানুষ। দেশের চার জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ছয় বিভাগ ও তিন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে এই তীব্র গরমের মধ্যে স্বস্তির খবর হিসেবে বৃষ্টির পূর্বাভাসও দিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (৪ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আবহাওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান।
আবহাওয়া অফিস জানায়, রাজশাহী, নওগাঁ, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং মৌলভীবাজার, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাজারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আগামী তিনদিন সারাদেশে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ (রোববার) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বশেষ রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হচ্ছে রাজশাহীতে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নেত্রকোনায় ৬০ মিলিমিটার।
আরও পড়ুন: আরও দুইদিন থাকতে পারে তাপপ্রবাহ, শেষে ঘূর্ণিঝড়ের আভাস
উল্লেখ্য, আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তাফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, ৬ থেকে ৮ জুনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি এবং ৭ থেকে ৯ জুনের মধ্যে আরব সাগরে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি ১১ থেকে ১২ জুনের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ও বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের মধ্যবর্তী কোনো স্থানের উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে আমেরিকান গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে ১১ থেকে ১২ জুন ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ সৃষ্টি হয়ে ১৩ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর এখনো পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের কোনো তথ্য জানায়নি।