ময়নাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় © সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট তিনজন শিক্ষার্থী পড়ান শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির একমাত্র ছাত্র অর্পন, আর এ বছর ১ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে দুইজন ছাত্র। গতবছরও শুধুমাত্র একজন ছাত্রকে পড়িয়েছেন বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক।
জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে আগে এত করুণ অবস্থা ছিল না। এরকম জনশূন্য পরিবেশের কারণ মূলত অন্যকিছু। পাঁচ-ছয় বছর আগে স্কুলে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী ছিলো। কিন্তু গত কয়েক বছর বর্ষা মৌসুমে গ্রামে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা, যা কয়েক মাস ধরে চলে। জীবিকার তাগিদে তাই এলাকার বেশিরভাগ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। লোকসংখ্যা কমতে কমতে এ গ্রামে বর্তমানে মাত্র ২৯টি পরিবার আছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানি বলেন, 'আমাদের তিনজন শিক্ষকদের মনের প্রফুল্লতা আসেনা তেমন একটি মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে আমরা যতোই মাতৃ স্নেহে পাশে বসিয়ে পাঠ মুখস্ত করাইনা কেন তাতে একা একা একটি শিশুর সমবয়সী পড়ার সাথী ছাড়া মন বসেনা পাঠ্য পুস্তকে।'
আরও পড়ুনঃ এসএসসির চলমান পরীক্ষার মধ্যেই যশোর বোর্ডের স্থগিত এমসিকিউ
শিক্ষার্থী কম থাকায় পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার কেশবপুরের একটি স্কুলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের প্রস্তাব করেছে শিক্ষা অফিস। কিন্তু ময়নাপুর গ্রামবাসীর দাবি, আগামী দিনে তাদের শিশুদের লেখাপড়ার জন্য স্কুলটি চালু রাখা হোক।
ডুমুরিয়া উপজেলার শেষ প্রান্তে ময়নাপুর গ্রামটি হাওড়ের মাঝে একটি দ্বীপের মতো অবস্থিত। গ্রামের বাসিন্দা তাপস কুমার মন্ডলের দান কৃত ৩৭ শতক জমিতে ১৯৯১ সালে স্কুলটি নির্মিত হয়েছিলো। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয় ময়নাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।