এম সাব্বির আহমেদ © ফাইল ছবি
ঈদ মানেই আমার চোখে ভেসে ওঠে এক ছোটবেলার আমি যে নতুন পাঞ্জাবি আর ঝকঝকে জুতো পরে আনন্দে আত্মহারা। পুরো এক মাস রোজা রাখার পর যখন ঈদ আসে, তখন মনের ভেতর এক অদ্ভুত শান্তি কাজ করে। ঈদের আসল উদ্দেশ্য হলো ধনী-গরিব সবাই মিলে আনন্দ করা। কিন্তু আমরা কি সত্যিই সেই আনন্দটা ভাগ করে নিতে পারছি?
গ্রামের ঈদের স্বাদই আলাদা। ভোরবেলা গোসল সেরে নতুন জামা পরে যখন সবাই ঈদগাহে যায়, তখন পুরো গ্রাম যেন হাসিতে ভরে ওঠে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নতুন পোশাকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে। নামাজ শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা আর কোলাকুলির মাঝে যে কত আপন ভাব থাকে, তা গ্রামে না দেখলে বোঝা যায় না।
আমার ছোটবেলার ঈদ ছিল একদম স্বপ্নের মতো। সকাল থেকেই ঘরে ঘরে সেমাই-পায়েসের মিষ্টি গন্ধ। সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বাবার হাত ধরে প্রথম ঈদগাহে যাওয়ার কথা। সেই দিনগুলো ছিল ভীষণ মায়ার, যেখানে কোনো চিন্তা ছিল না, ছিল শুধু আনন্দ আর আনন্দ।
সময়ের সাথে সাথে ঈদ যেন অনেকটা বদলে গেছে। আগে ঈদ ছিল সবার মিলনমেলা, আর এখন যেন সবাই খুব ব্যস্ত। তবুও ঈদের দিনটি এলে মনটা সেই পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যেতে চায়। ছোটবেলায় ঈদ সালামি পাওয়ার জন্য যে উত্তেজনা ছিল, এখন বড় হয়ে সালামি দেওয়ার মধ্যে সেই একই রকম ভালো লাগা খুঁজে পাই। নিজের খুশিটা অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার আনন্দও কিন্তু কম নয়।
বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের বলব, ঈদ মানে শুধু ঘোরাঘুরি বা ভালো খাবার নয়; ঈদ হলো মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ার সময়। আমাদের আশেপাশে যারা অসহায় আছে, তাদের নিয়ে একসাথে আনন্দ করার চেষ্টা করো। নিজের আনন্দ অন্যের সাথে ভাগ করলে দেখবে জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর হয়ে উঠেছে।
আমার কাছে ঈদ মানে হলো ভালোবাসা আর মানবিকতা। এই আনন্দটা যেন শুধু একদিনের না হয়ে সারা বছর আমাদের মনে থেকে যায়। আমরা যেন সবাই মিলেমিশে হাসি-খুশিতে থাকতে পারি।
লেখক: শিক্ষার্থী সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা