নতুন উপাচার্যের কাছে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা: উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস যখন স্বপ্ন

০৫ জুন ২০২৬, ০২:১৭ PM
মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থী

মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থী © টিডিসি সম্পাদিত

একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয় এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মুক্তচিন্তার বিকাশের কেন্দ্র। আর একজন উপাচার্য কেবল প্রশাসনিক প্রধান নন; তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই নতুন নেতৃত্ব মানেই নতুন সম্ভাবনা, নতুন পরিকল্পনা এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা। 

গত ১৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নবম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা, নতুন সম্ভাবনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা। 

শিক্ষার্থীদের কেউ চান গবেষণা ও একাডেমিক মানোন্নয়ন, কেউ প্রত্যাশা করেন আধুনিক ল্যাব ও পর্যাপ্ত শিক্ষাসুবিধা, আবার কেউ দেখতে চান শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন ও একটি প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস সংস্কৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে উঠে এসেছে উন্নয়ন, অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন এবং একটি আরও সমৃদ্ধ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা।

নতুন নেতৃত্বের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার জায়গাগুলো উঠে এসেছে শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থী কল্যাণ এবং একটি আরও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে।

রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আবুল কাশেম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার পরিবেশে নিহিত। তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের দালানকোঠা নয়; বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান চর্চা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং মুক্তবুদ্ধি বিকাশের পবিত্র স্থান। আর একজন উপাচার্য হলেন সেই নালন্দার প্রধান কাণ্ডারি, যিনি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রগতি, শৃঙ্খলা এবং গবেষণার আলোতে এগিয়ে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, নতুন উপাচার্যের মেধা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অ্যাকাডেমিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এমন প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। 

তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বনামধন্য হলেও বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় ল্যাব ইকুইপমেন্টের ঘাটতি রয়েছে; নেই মানসম্মত জিমনেসিয়াম, স্টেডিয়াম কিংবা টিএসসি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন উপাচার্য এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্যের কিছু কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গও উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ সেশনের শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সুবিধা ও শিক্ষার্থী কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নতুন উপাচার্যের কাছে তাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলোর কম্পিউটার ব্যবহার উপযোগী করে তোলা এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্পিউটারের ব্যবস্থা করা, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

তিনি আরও প্রত্যাশা করেন, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় বই সংযোজন, বাস সংকট নিরসন ক্যাম্পাসে বাস বৃদ্ধি, নির্ধারিত ট্রিপ সমূহে বাস চলাচল বৃদ্ধি করা এবং আবাসিক হলের বরাদ্দকৃত সিট সংখ্যা বৃদ্ধি, গ্যাস লাইনের সমস্যা নিরসন, খাবারের মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস বজায় রাখা এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

সিদরাতুলের ভাষায়, নতুন উপাচার্য যেন সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন এটাই তাদের প্রত্যাশা।

ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মাহির চৌধুরী লাবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নতুন উপাচার্যের কাছে তাদের প্রত্যাশা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, সেশনজট নিরসন, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী কার্যক্রমে অধিক গুরুত্ব প্রদান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন উপাচার্য সম্পর্কে তিনি ইতিবাচক ধারণা শুনেছেন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ও সহজে যোগাযোগযোগ্য প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারে এবং সরকারি বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প আহরণে প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার স্বপ্ন।  

অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষার্থী সেবা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা—সব ক্ষেত্রেই তারা দেখতে চায় ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন সময়ই বলে দেবে, নতুন নেতৃত্ব এই প্রত্যাশাগুলোকে কতটা বাস্তবতায় রূপ দিতে পারে।

সরকারি ত্রাণ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ, বিএনপির ২ নেতার …
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
রথযাত্রা থেকে ফিরে বাসায় মিলল নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
৩ মাসের শিশুর পা ভেঙে দেওয়া সেই চাচি গ্রেফতার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছরে বহুতল ভবন থেকে পড়ে ৩ শ্রমিকে…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence