কেন মব বন্ধ করা জরুরি অন্তর্বর্তী সরকার কী এখন বুঝতে পারছে?

২২ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৭ PM , আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৪ PM
শরিফুল হাসান

শরিফুল হাসান © টিডিসি সম্পাদিত

কেন মব বন্ধ করা জরুরি অন্তর্বর্তী সরকার কী এখন বুঝতে পারছে? দেখুন, যে কোনো বিষয়ে মত-দ্বিমত থাকবে, কিন্তু কথায় কথায় সচিবালয়ে ঢুকে যাওয়া, পুলিশের ওপর হামলা, মব, ভাঙচুর, আগুন, রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস এবং সর্বোপরি মানুষের ওপর হামলা, হত্যা, পুলিশের পিটুনি, মিথ্যা মামলা, হয়রানি, দায়িত্বহীন আচরণ এগুলো কখনো কোনভাবে সমাধান হতে পারে না। এসব যেই করুক, যেই আমলেই করুক, তা সমর্থনযোগ্য নয়।
 
আফসোস হলো গত বছর যারা এগুলোকে সমর্থন করেছে, এখন তারা এগুলো পছন্দ করছে না। ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে। আর গতবছর যারা বলছে এগুলো খারাপ তারা এখন বেশ খুশি। ওই সময়ে মানুষের মৃত্যুতে যারা কেঁদেছে তাদের বড় অংশই এখন চুপ কিংবা ইনিয়ে-বিনিয়ে সরকারের কাজকে বৈধতা দিচ্ছেন। এমনকি ছাত্রদেরকে নির্মমভাবে পেটানোও তাদের ব্যথিত করে না।
 
আবার আলাপগুলো দেখুন, আগের মতোই পিএস, এপিএস, সচিবরা খুব খারাপ, তারা দুর্নীতি করছেন তাদের কারণে সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু উপদেষ্টারা ভালো। খেয়াল করে দেখুন, ক্ষমতার কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাধারণ মানুষের জীবন আগের মতোই অনিরাপদ। শ্রমজীবী মানুষ আগের মতোই কষ্ট আছে।
 
গত বছরের এই সময় আর আজকের সময়টাকে মেলান! যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, ছাত্রদের পেটানো, গুলি, কারফিউ থেকে শুরু করে পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ প্রতিটা ধাপে রাষ্ট্রের আচরণ স্রেফ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! এসব নিয়ে কথা বললে আগের মতোই ক্ষমতাসীন কিংবা তাদের সমর্থকদের গালি খাবেন। কখনো তারা আপনাকে সুশীল বলবে, কখনো নানা দলের ট্যাগ দেবে।

আফসোস, ভীষণ আফসোস! ৫৪ বছর ধরে সেই একই চিত্র! ক্ষমতায় থাকলে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশকে নিজের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা আর ক্ষমতায় না থাকলে এগেলো খুব খারাপ! কিন্তু কেউ বিচার বিভাগটাকে ঠিক করল না, পুলিশকে স্বাধীন করল না।
 
ভীষণ আফসোস লাগে সত্যিই! এই দেশের মানুষ সেই আইয়ুব খান থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সবাই শুধু উন্নয়ন আর সংস্কারের গল্প শুনালেন, কিন্তু সুশাসন আর এলো না! মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এলো না। এত গুলো শিশু মরে যাওয়ার পরেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করল না সরকার! এমনকি সরকার বুঝতেই পারছে না এই ঘটনার পুরো দায় এই রাষ্ট্র আর তার নানা বাহিনীর। 

আফসোস লাগে এই দেশে চেয়ারে গিয়ে সবাই অন্ধ হয়ে যায়। এই দেশের একজন মানুষ হিসেবে ভীষণ দুঃখ লাগে। জানি না কবে সুশাসন আসবে! জানি না অন্ধ আনুগত্য বা অন্ধ ঘৃণার বদলে কবে ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে মানুষকে আমরা মানুষ ভাবতে পারব! জানি না কবে সব ধরনের মব বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। জানি না কবে রাষ্ট্র বুঝবে কোন কোন দুর্ঘটনার পুরো দায় রাষ্ট্রের। জানি না এই দেশের ভবিষ্যৎ কী?
 
মাঝে মধ্যে মনে হয়, এই যে শিশুরা মারা গেল এতো এতো মানুষ মরে, মার খায়, তাদের অভিশাপেই দেশটার করুণ পরিণতি। আফসোস লাগে এগুলো ঠিক করার জন্য যে চেষ্টা, সুশাসনের যে চেষ্টা তা কখনো হয় না।‌ কোন সরকার বোঝে না ব্যক্তি নয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোটা ঠিক করা জরুরি। এর বদলে দেখি যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ! সবসময় তাই বলি, আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিবেকবোধ দিক! বাংলাদেশটা ভালো থাকুক! ভালো থাকুক প্রতিটি মানুষ!

লেখক: কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাসফরে গেল এনএসইউ’র মার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি আবেদন দুইদিনে ৭ হাজার ছাড়াল
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে, আবেদন ৩ সেপ্টেম্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন এলজিআরডি মন্ত্রী  
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
না ফেরার দেশে ঢাবি ছাত্র হাবিবুর রহমান শুভ
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬