সরকারি স্কুলে লটারিতে ভর্তি: ভাগ্যচক্রের জাঁতাকলে পিষ্ট মেধাবীরা 

২২ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০২ AM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩০ PM
আনোয়ার হোসেন

আনোয়ার হোসেন © টিডিসি সম্পাদিত

ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি ও দক্ষতা যাচাই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। ভর্তিতে লটারি সিস্টেম কোমলমতি শিশুদের মাঝে এক নেতিবাচক মনোভাবের জন্ম দেয়। স্কুলে সুযোগ পাওয়াটা ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা পড়াশোনা করার প্রয়োজনীয়তা মনে করেন না। যে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম বা দ্বিতীয় হতো লটারি সিস্টেমে তার ভাগ্য সহায় নাও হতে পারে।

ভাগ্যচক্রের এই জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী সরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে। তখন তাদের বাবা-মায়ের চোখে-মুখে ফুটে উঠে দুশ্চিন্তা আর বিষণ্ণতার ছাপ। তাদের হৃদয় নিংড়ানো অনুভূতি একটাই, আমার ছেলেটা বা মেয়েটা পড়াশোনায় অনেক ভালো। কিন্তু লটারিতে তার ভাগ্য সহায় হলো না!

লটারিতে ভর্তি সিস্টেমে তদবির এবং স্বজনপ্রীতি এখন মামুলি বিষয় হয়ে উঠেছে। এ অনৈতিক সুবিধাটুকু কিন্তু পর্দার আড়ালে খুবই সূক্ষ্মভাবে ঘটে থাকে। এভাবেই উপরমহলের একটা ফোন বা সুপারিশপত্রের কাছে হাজারো মেধাবীর স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। আর টাকা দিয়ে মেধা কেনার প্রতিযোগিতা জুয়া খেলার মতোই রটে যায় ।

করোনা মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ পদ্ধতির অধীনে, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। অভিভাবকদের অনলাইনে আবেদন করতে হয়, এবং পরে লটারি কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

সম্প্রতি প্রথম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের মহানগরী ও জেলার সদর উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনসহ অন্য তথ্য দাখিলের সময়সীমা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।’ তাহলে কি ২০২০ থেকে ২৪ দীর্ঘ চার বছর সরকারি স্কুলগুলোতে করোনা মহামারী রয়েই গেছে! এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার মত নয়।

লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক যোগ্য এবং মেধাবী শিক্ষার্থী যাদের ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা ছিল, তারাও এই পদ্ধতিতে সুযোগ না পেয়ে হতাশ হচ্ছে। লটারি ভিত্তিক ভর্তির মাধ্যমে প্রাপ্য শিক্ষার্থীরা সুযোগ হারাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে স্কুলের আসনসংখ্যাও বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু ভর্তিতে লটারি সিস্টেম কোন অবস্থাতেই যৌক্তিক নয়। 

তাই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে সচল রাখা প্রয়োজন। সরকারি স্কুলগুলোতে মেধার সঠিক মূল্যায়নে লটারির মাধ্যমে ভর্তির বর্তমান ব্যবস্থা বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।


লেখক: শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

রাকসু জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন করবে ছ…
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও বন্ধ
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
কুবিতে ‘পাটাতন’ এর প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সাক্ষাৎ
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
কাল ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9