বাংলার প্রথম রাজধানী সোনারগাঁও

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৪ PM , আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫২ PM
প্রাচ্যের ডান্ডি ও বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও

প্রাচ্যের ডান্ডি ও বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও © টিডিসি ফটো

প্রাচ্যের ডান্ডি ও বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও। ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর উত্তরে নরসিংদী ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা, পূর্বে কুমিল্লা, পশ্চিমে ঢাকা জেলা এবং দক্ষিণে মুন্সিগঞ্জ জেলা। নারায়ণগঞ্জের মধ্য দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী প্রবাহিত হয়েছে। পূর্ব সীমানা দিয়ে মেঘনা নদী, পশ্চিম সীমানার কিছু অঞ্চল দিয়ে বুড়িগঙ্গা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানায় ধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ১৯৪৭ সালে মহকুমায় এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়।

বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ। আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়। মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।

ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে। অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনা-বিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।

১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী। ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী। সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দ্বারা তৈরি। ইমারতগুলো কোথাও একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও সন্নিহিত।অধিকাংশ ভবনই আয়তাকার এবং উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত।দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন স্থাপত্যের মাধ্যমে পানামনগর গড়ে উঠেছিল। উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরনো বাড়ী এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ।

পানাম নগর - উইকিপিডিয়া

পানাম শহরের ঠাকুরবাড়ি ভবন ও ঈশা খাঁ’র তোরণকে একত্রে নিয়ে মোট প্রায় ষোল হেক্টর স্থান জুড়ে লোকশিল্প ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের অবস্থান। এখানে ১টি জাদুঘর, ১টি লোকজ মঞ্চ, সেমিনার কক্ষ ও কারুশিল্প গ্রাম রয়েছে। এখানকার জাদুঘরে প্রায় সাড়ে চারহাজার নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। প্রতি শুক্রবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তবে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জুমার নামাজের জন্য জাদুঘর বন্ধ থাকে।

রঙ-বেরঙের সুতা আর প্রধানত প্রকৃতি-নির্ভর গ্রামীণ নকশায় কারুশিল্পীদের সুনিপুণ হাতে নান্দনিক রূপ ও বৈচিত্র্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি জামদানি। অতি সাধারণ উপাদানে আমাদের কারুশিল্পীদের মনের মাধুরী মেশানো রঙের বহুবিধ ব্যবহার ও কারুকাজের সমন্বয় ঘটছে জামদানি তৈরিতে। জামদানি শাড়ি অতীত বাংলার মসলিনের গৌরব-দীপ্তের আংশিক রেশ নিয়ে আজো অনন্য। একান্তভাবে দেশীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ব্যবহারে শিল্পীদের মৌলিক শিল্পবোধ ও ধ্যান-ধারণায় সৃষ্টি এই জামদানি।

সবচেয়ে বড় কথা, আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোনো দেশের কারিগরদের পক্ষে জামদানি তৈরি সম্ভব হয়নি। জামদানি প্রাচীনকালে তাঁত বুনন প্রক্রিয়ায় কার্পাস তুলার সুতা দিয়ে মসলিন নামে সূক্ষ্ম বস্ত্র তৈরি হতো এবং মসলিনের ওপর যে জ্যামিতিক নকশাদার বা বুটিদার বস্ত্র বোনা হতো তারই নাম জামদানি। জামদানি বলতে সাধারণত শাড়ি বোঝানো হলেও প্রকৃতপক্ষে ঐতিহ্যবাহী নকশায় সমৃদ্ধ ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, ঘাগরা, রুমাল, পর্দা, টেবিল ক্লথ সবই জামদানির আওতায় পড়ে। সপ্তদশ শতাব্দীতে জামদানি নকশার কুর্তা ও শেরওয়ানির ব্যবহার ছিল।

মোগল আমলের শেষের দিকে নেপালে ব্যবহৃত আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্য বিশেষ ধরনের জামদানি কাপড় তৈরি হতো। কালের আবর্তে আমাদের অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও ঐতিহ্যবাহী মসলিনের উত্তরাধিকার জামদানি শিল্প স্বকীয়তার মাঝে আজো বিকশিত হচ্ছে। এখন দেশের বাজারে জামদানি পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জামদানি পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারও প্রসারিত হচ্ছে।

এ পণ্যের আলাদা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর শিল্পীরা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই। আদিকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকায় জামদানি কারুশিল্পীদের বংশানুক্রমিক বসবাস।

সোনারগাঁয়ের স্থাপত্য নিদর্শনগুলি সুবিন্যস্ত অবস্থায় দেখা যায় না। সেখানে এখন এমন কোনো নিদর্শন বা ধ্বংসাবশেষ নেই যা হিন্দু আমলের রাজধানী শহরের নিদর্শনরূপে চিহ্নিত করা যায়। শুধু রয়েছে নগর এলাকার চারপাশ ঘিরে গভীর কর্দমাক্ত মজা খাল, যা নগরের প্রতিরক্ষার জন্য খনিত পরিখা বলে প্রতীয়মান হয়। বর্তমান নিদর্শনগুলি হচ্ছে কয়েকটি মধ্যযুগীয় ইমারত, যার অধিকাংশই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সেগুলি সুলতানি ও মুগল আমলের। আর রয়েছে মুগল আমলের কয়েকটি সেতু ও ইংরেজ আমলের গুটিকয়েক আবাসিক ভবন।

সোনারগাঁও উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে রয়েছে  খাসনগর দিঘি, দালালপুরে  কোম্পানি কুঠি (নীল কুঠি), হাবিবপুরে পাগলা শাহের মাজার,  গোয়ালদি মসজিদ (১৫১৯),  আবদুল হামিদ মসজিদ (১৪৩৩-৩৬), মুয়াজ্জমপুরে শাহ লঙ্গরের দরগাহ, আমিনপুরে ক্রোড়িবাড়ি, আমিনপুর মঠ, দামোদরদি মঠ, মিসরিপুরা মঠ, মঠের পুকুর পাড়ের মঠ, পানাম নগরের আবাসিক ভবন ও ঈসাপুরে সরদার বাড়ি (১৯০১)।

পানামা সিটি || Panam City || পানাম নগর || সোনারগাঁও ও পানাম নগর | ভ্রমণ  গাইড - YouTube

সোনারগাঁয়ে নিদর্শনগুলি হচ্ছে মোগরাপাড়ায় দরগাহ-বাড়ি কমপ্লেক্সে দরগাহ ভবন, মাদ্রাসা ভবন,  ফতেহ শাহ মসজিদ (১৪৮৪), নহবতখানা, শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার সমাধি (মৃত্যু ১৩০০), সাইয়্যিদ ইবরাহিম দানিশমন্দের সমাধিসৌধ, সাইয়্যিদ আরিফ বিল্লাহর সমাধি, সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইউসুফের সমাধিসৌধ এবং মুন্না শাহ দরবেশের মাজার। দক্ষিণ পাশের অপরাপর নিদর্শন হচ্ছে মোগরাপাড়ায় দমদমা, শাহ চিলাপুরে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ’র সমাধি, গোহাট্টায় পোকাই দেওয়ানার মাজার, ভাগলপুরে পাঁচ পীর দরগাহ ও মসজিদ,  ইউসুফগঞ্জ মসজিদ এবং দারুগোলায় শেখ সাহেবের মসজিদ। বন্দর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এলাকার নিদর্শন হচ্ছে সদরে অবস্থিত  বন্দর শাহী মসজিদ (১৪৮১), সালেহ নগরে বাবা সালেহ মসজিদ (১৫০৫) ও বাবা সালেহর সমাধি (মৃত্যু ১৫০৬), বন্দর মঠ,  সোনা-কান্দা দুর্গ (১৭শ শতক), দেওয়ানবাগে  দেওয়ানবাগ মসজিদ (১৬শ শতক) এবং নবীগঞ্জে  কদম রসুল দরগাহ।

ইতিহাসখ্যাত সোনারগাঁও নগর এখন শুধু নামেই রয়েছে। ঢাকা নগরীর প্রতিষ্ঠার পর থেকে সোনারগাঁও তার প্রাধান্য হারাতে থাকে এবং ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে সোনারগাঁও পরিণত হয় ‘গভীর জঙ্গলে আচ্ছাদিত গন্ড গ্রামে’। কিন্তু প্রায় এক শতক কালের ব্যবধানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যোগাযোগ সুবিধার ফলে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনার মধ্যবর্তী ভূভাগ এখন পরিণত হয়েছে একটি উৎপাদনশীল এলাকায়। মহাসড়কের উভয় পাশে পল্লবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, গড়ে উঠেছে বহুতর শিল্প কারখানা। মহাসড়কের উত্তর পাশে পানাম ও গোয়ালদির দিকে এবং দক্ষিণ পাশে মোগরাপাড়ায় সম্প্রতি গড়ে ওঠা আধুনিক বসতি দ্রুত পাল্টে দিচ্ছে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং এতে করে দিনে দিনে এলাকাটি রূপ নিচ্ছে একটি উপশহরের।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নতুন পরিচালক ডা. মো. মামুনুর রশীদ
  • ২০ মে ২০২৬
‘ওয়ান ট্যাব ওয়ান টিচার’ কর্মসূচিতে সহায়তা করবে গুগল
  • ২০ মে ২০২৬
হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদে প্রত্যাবর্তন: কার লাভ, কার ক্ষতি
  • ২০ মে ২০২৬
বোনকে প্রেমের প্রস্তাব: বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা আরেক বন্ধুর,…
  • ২০ মে ২০২৬
তিন দিন মৃত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ, যা বলল স্কয়ার …
  • ২০ মে ২০২৬
গাজার মানুষের কাছে হজ যেন এক অধরা স্বপ্ন
  • ২০ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081