ডাকসুর শোকবার্তা
কবি আল মুজাহিদী © সংগৃহীত
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে এক শোকবার্তায় এই শোক প্রকাশ করা হয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ এতে সই করেছেন।
শোকবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তাত্ত্বিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।
আল মুজাহিদীর সংগ্রামমুখর জীবনের বর্ণনা দিয়ে শোকবার্তায় বলা হয়, তিনি আজীবন ফ্যাসিবাদবিরোধী, গণতান্ত্রিক ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ছয়বার কারাবরণ করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক ও তাত্ত্বিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে তিনি প্রকাশ্য সমর্থন, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও কবিতার মাধ্যমে দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে তিনি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা, গণমুক্তি এবং বাংলাদেশপন্থী সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। ডাকসু মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।
এর আগে আজ শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। জানা গেছে, আজ বাদ এশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রথম জানাযা শেষে রাত ১০টায় উত্তরায় আল মুজাহিদীর দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল সকালের তার মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় প্রেসক্লাবে। ওইদিন বাদ যোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শেষ জানাযার পর তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এদিকে কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম শোক প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কবি আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে এবং কিডনি জটিলতাসহ ফুসফুসে পানি জমায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন আজ দুপুরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলা সাহিত্যের ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান এই কবির প্রয়াণে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কবি আল মুজাহিদীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন, টাঙ্গাইলে। তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশিকাল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কবিতা, উপন্যাস, গল্প, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্যসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অবদান ছিল অতুলনীয়। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’, ‘যুদ্ধ নাস্তি’ প্রভৃতি। সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ ছাড়াও অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।