আড্ডায় সমরেশ মজুমদার

একসময় টাকার জন্য লিখতাম, এখন...?

০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৫৮ PM
উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষের স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার

উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষের স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার

পাঁচ শতাধিক ভক্তের মুখোমুখি হলেন কালজয়ী সব উপন্যাসের স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার। আড্ডা দিলেন নিজ জীবনের জানা-অজানা নানা গল্প নিয়ে। আলাপচারিতায় বাদ যায়নি নিজের জীবনের পাড়ি দেয়া দুঃসহ স্মৃতির কথা। হঠাৎ স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে যখন ভুলে গিয়েছিলেন সবকিছুই। ভক্তদের শোনান আবার জীবনে ফেরার সে গল্পও। এখন তিনি স্বপ্ন দেখেন আরো কিছু উপন্যাস লেখার। তারমধ্যে একটিতে থাকবে দেশভাগ আর বাংলাদেশের কথা।

গ্রন্থবিপনি বাতিঘরের আমন্ত্রণে শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আসেন চট্টগ্রামে। সেখানেই নিজের জীবন ও লেখালেখি সম্পর্কে এসব কথা তুলে ধরেন সাতকাহন, উজান গঙ্গা, উত্তরাধিকার কিংবা কালপুরুষের মত কালজয়ী উপন্যাসের এই সাহিত্যিক।

সমরেশ মজুমদার জানান, বাংলাদেশের মানুষকে ভাষা আন্দোলন উদ্দীপ্ত করেছে। শেখ সাহেবের আন্দোলনও হতে পারে। কিন্তু এর বাইরে আরেকটা জাগরণ তিনি দেখতে পান। সেই জাগরণের গল্প লেখার ইচ্ছে তার।

তিনি বলেন, আমি যে এখানে আসতে পেরেছি সেটা শুধু পাঠকদের ভালোবাসায়। ঠিক আড়াই বছর আগে ঈশ্বর আমাকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ৭দিন পর আমার জ্ঞান ফিরে আসে। আপনারা হয়তো বিশ্বাস করবেন না, যখন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরি তখন বাংলা অক্ষর চিনতে পারিনি। তখন ছোট মেয়ে আমাকে অ আ শিখিয়েছিল। ঠিক ছোটবেলার মতো করে অক্ষর শিখেছি।

লেখালেখি শুরুর গল্প বলতে গিয়ে সমরেশ বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একবারও ভাবিনি লেখক হব। গ্রুপ থিয়েটার করতাম। গ্রুপ থিয়েটারের জন্য নাটক লিখলাম, হয়নি। আবার লিখলাম, হয়নি। এক বন্ধু বললো গল্প লেখ, তারপর নাট্যরূপ দে। অনেক কাণ্ডের পর সে গল্প দেশ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।

দেশ সম্পাদক সাগরময় ঘোষের প্রেরণায় রেসকোর্সের ঘোড়দৌড় নিয়ে লেখা ‘দৌড়’ দিয়ে উপন্যাসে হাতেখড়ি হয় সমরেশ মজুমদারের। তখন লোকে যদি বলত, কেন লেখেন? আমি বলতাম, টাকার জন্য লিখি। এই কথাটা আমরা ঘৃণার চোখে দেখতাম। কিন্তু আমি বলতাম।

প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে সমরেশ মজুমদার বলেন, যখনই আমি ঢাকায় আসতাম হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কথা হতো। তার বাসায়, নুহাশপল্লীতে, আমেরিকার বিভিন্ন শহরে আমরা কথার পর কথাই বলে গেছি। সে প্রায়ই বলত, সমরেশ দা- যে মানুষ ১৫ থেকে ১৬তে পা দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ পড়েনি সে পাঠক না। আর যে ২৫-এ পড়ার পর হুমায়ূন আহমেদ পড়ে- সে পাঠক না। এটা বলার ক্ষমতা সব লেখকের হয় না।

জনপ্রিয় এ লেখককে বিরামহীন লেখার রসদ জোগান রবীন্দ্রনাথ— এ কথা জানিয়ে বলেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গানগুলো আমার কাছে মন্ত্রের মতো। ঈশ্বরের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। কিন্তু আমার মন দুঃখ পেলেই আমি রবীন্দ্রনাথের গান শুনি। আমার মন ভালো থাকলেও রবীন্দ্রনাথের গান শুনি, মন আরও ভালো হয়ে যায়। বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের বিষয়ে সমরেশ মজুমদার বলেন, ঢাকায় এলে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কথা হতো। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত আড্ডা চলত। তার বাসায়, নুহাশ পল্লীতে, আমেরিকার বিভিন্ন শহরে আমরা কথার পর কথাই বলে গেছি। সে প্রায়ই বলত, সমরেশ দা— যে মানুষ ১৫ থেকে ১৬ তে পা দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ পড়েনি সে পাঠক না। আর যে ২৫ এ পড়ার পর হুমায়ূন আহমেদ পড়ে, সেও পাঠক না। এটা বলার ক্ষমতা সব লেখকের হয় না।

ত্রয়ী উপন্যাস উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষের লেখক সমরেশ বলেন, নিজের ছায়াকে নিয়ে উত্তরাধিকার শুরু করছিলাম। উত্তরাধিকার শেষ হতে চায় না। অনিমেষ কলকাতা এলো, তার গায়ে গুলি লাগল। এভাবে শেষ করলাম, আমি ভাবলাম বাঁচা গেল। পরে লিখলাম ‘কালবেলা’।

কালবেলার লেখার পেছনের ঘটনায় মজুমদার বলেন, দিন দশেক পরে দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ আমায় ডাকালেন। উনার সামনে ট্রে ভর্তি চিঠি। বললেন, একটা চিঠি তোলো, পড়। আমি একটা চিঠি তুলে পড়লাম। তাতে লেখা- আপনারা বুর্জোয়া কাগজ, তাই গরিবদের পক্ষের লেখক সমরেশ মজুমদারকে আপনারা লিখতে দেননি। আমরা দেশ পত্রিকা বর্জন করব।

সাগরময় দা বললেন, প্রত্যেক চিঠিতে এই কথা লেখা আছে। আমি কি তোমাকে বলেছি বন্ধ কর? শেষ করলে কেন? আমাকে গালাগাল খেতে হয় কেন? বললাম- আমি পারিনি। এরপর লিখলাম- কালবেলা।

আলাপচারিতায় চা বাগানের স্মৃতি তুলে ধরে সমরেশ মজুমদার বলেন, বছরে দু’বার চা বাগানে না গেলে দম বন্ধ হয়ে আসে। ৭-৮ বছর বয়সে চা বাগানে জাম্বুরা দিয়ে ফুটবল খেলতাম। তখন একটি ৮ বছরের মেয়েকে দেখতাম। ভাইকে পিঠে নিয়ে খেলা দেখত। ৬৫ বছর পর সেই মেয়ের সঙ্গে দেখা, সে আমার ডাক নাম বলল। আমি চমকে উঠলাম। সে আমাকে হাড়িয়া খাওয়ালো, এটি আমার জীবনে অনেক বড় পুরস্কার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমরেশ মজুমদারের লেখা ‘জীবন যেন পদ্মপাতার জল’ এই গানটি করেন শিল্পী অনিন্দিতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি বিশ্বজিৎ চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, সমরেশ মজুমদার জন্মগ্রহন করেন ১৯৪২ সালের ১০ মার্চ। অনেক অসাধারণ লেখনীর শব্দের এই রূপকার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ দিল কনকসাস
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
গননা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র পাহাড়া দিতে নেতাকর্মীদ…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
যুবলীগের চার নেতা গ্রেপ্তার
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
মহিলাদের প্রচারে বাঁধা, সংঘর্ষে জামায়াতের ৬ কর্মী আহত
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য বহ…
  • ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
গবেষণার পাশাপাশি কারুকার্যেও সৃজনশীলতার ছাপ রেখে চলেছে শিক্…
  • ২৫ জানুয়ারি ২০২৬