বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর © সংগৃহীত
১৯৩০ সালে ইংরেজদের সাথে এক মাঠে রবীন্দ্রনাথ ক্রিকেট খেলছেন। তিনি বিশ্বনন্দিত কবি। তাঁর লেখা গানের কথা ও সুরে মোহিত হয়েছে বিশ্ববাসী। বাঙালির গর্ব। সেই তিনিই আবার ইংরেজদের স্বাধীনিতা আন্দোলনের বার্তা দিতে ব্যাট হাতে ক্রিকেট মাঠে খেলেছেন! কলমের পাশাপাশি বিশ্বকবির ব্যাটও চলেছে ক্রিকেট মাঠে।
বাংলার সবথেকে পুরনো সংবাদপত্র বসুমতী পত্রিকার ১৯৩০ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাতায় ব্যাট হাতে রবীন্দ্রনাথের এই চিত্রটি ওঠে আসে ।
প্রতিবেদক লিখেছেন, কল্পনার সেই ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হয়েছিল তৎকালীন বিহারের অন্তর্গত ধানবাদের ছোট্ট একটি শহর গোমহে। রবীন্দ্রনাথের দলে ছিলেন ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা, পাতিয়ালার মহারাজা, নবাব পতৌদি (ক্রিকেটার বাবা), কোচবিহারের মহারাজা এবং দলীপ সিংজি। তাঁরা খেলতে এসেছিলেন নিজস্ব বিমানে চড়ে। ঘটনা হল বিশ্বকবি নিছক বেড়াতে গিয়েছিলেন গোমহে। কবি সেই ভ্রমণকাহিনীকে এমন সাজিয়ে গুছিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিবেদক।
সানাই ঢাক ঢোল পিটিয়ে খেলা শুরু হিয়েছিল। মেয়েরাও উপস্থিত হয়েছিলেন খেলা দেখতে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন যারা রাজপরিবারের সঙ্গে এসেছিলেন খেলা দেখতে। রবীন্দ্রনাথের দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ক্ষিতি সেন অর্থাৎ অমর্ত্য সেনের বাবা এবং বিধুশেখর শাস্ত্রী।
তখন ইংরেজ রাজত্ব চলছে ভারতে। তাই প্রতিবেদক কিছুটা জাতীয়তাবাদের রূপও দিয়েছেন। কবি বিদেশি খেলায় অংশ নিলেন। কিন্তু হাতে ছিল দেশি কাঠের তৈরি ব্যাট। মাথায় পড়েছিলেন হ্যাটের বদলে পাতার তৈরি টোকা।
উক্ত ঘটনা লেখকের মস্তিষ্ক প্রসূত। তবে বাংলার প্রথম ক্রীড়া সাংবাদিক ব্রজরঞ্জন রায় আবার নিজের লেখার ব্যকারণ থেকে শুরু করে শব্দচয়নের জন্য সাহায্য নিতেন বিশ্বকবির। কবিও তাঁকে ভালো লেখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। ক্রিকেটের বহু প্রতিবেদন লেখার সময় তাঁকে সাহায্য করেছেন।
সূত্র: kolkata24x7.com