দোয়ারত বান্দা © সংগৃহীত
আমরা জীবনে এমন অনেক কাজ আছে যা পরে করবো বলে ফেলে রাখি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি যে আমি হঠাৎ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে পারি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনকে নিয়ামতে পরিপূর্ণ করেছেন। তবে আমরা অনেকেই সেদিকে খেয়ালই করিনা। চিন্তা করি এখন তো বয়স মাত্র শুরু হল, পরে এগুলো করে নিব। কিন্তু পরে আমি কি সেই সময়টা আসলেই পাব?
রাসূল (সা.) হারানোর আগেই পাঁচটি নিয়ামতকে মূল্যায়ন করতে বলেছেন। সময় থাকতে আমরা যদি সেগুলো না করি তবে সময়ের সঙ্গে নিয়ামতগুলো যেকোনোটি হারিয়ে যেতে পারে। তাই সুযোগ থাকতে এসব নিয়ামতের সদ্ব্যবহার করতে বলেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
হজরত আমর ইবনে মাইমুন আল-আওদি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘পাঁচ জিনিসের আগে পাঁচ জিনিসকে মূল্যায়ন করো। তা হলো—১. বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে। ২. অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতাকে। ৩. দারিদ্র্য আসার আগে স্বচ্ছলতাকে। ৪. ব্যস্ততার আগে অবসরকে। ৫. মৃত্যু আসার আগে জীবনকে।’ (মিশকাত ৫১৭৪)
বার্ধক্য আসার আগে যৌবনের মূল্যায়ন
মানুষের জীবনে যৌবন কর্মক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে ইবাদত, জ্ঞানার্জন ও কল্যাণকর কাজ করার সুযোগ বেশি থাকে। যৌবনকে ইবাদতে কাটানোর বিশেষ মর্যাদার কথাও হাদিসে এসেছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যৌবনকাল ইবাদতে কাটানো যুবক সেই সাত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে মহান আল্লাহ কেয়ামতের কঠিন অবস্থায় তাঁর আরশের ছায়াতলে স্থান দান করবেন আর সেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না। (বুখারি ৬৬০, মুসলিম ১০৩১, নাসায়ী ৫৩৮০, তিরমিজি ২৩৯১)
অসুস্থ হওয়ার আগেই সুস্থতাকে
অসুস্থ হলেই বোঝা যায় সুস্থতা আল্লাহর কত বড় নিয়ামত। সুস্থ অবস্থায় মানুষ যে কাজ ও ইবাদত করতে পারে, অসুস্থ হলে তা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই সুস্থতার প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর ইবাদতে কাটানো জরুরি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দিনটি পারিবারিক নিরাপত্তাবোধ ও সুস্থতার মধ্য দিয়ে শুরু করতে পারলো এবং নিজের দিনটিকে কাজে লাগাতে পারল সে যেন সমগ্র দুনিয়া অধিকার করলো। (তিরমিজি ২৩৪৬, ইবনে মাজাহ ৪১৪১)
দারিদ্র্য আসার আগে স্বচ্ছলতাকে মূল্যায়ন কর
মানুষের ধন-সম্পদ চিরস্থায়ী নয়। আজ যে ব্যক্তি সচ্ছল, ভবিষ্যতে তিনি অভাবের মুখে পড়তে পারেন। তাই সামর্থ্য থাকতেই নিজের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি দান-সদকা ও মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় তোমার রব যাকে ইচ্ছা করেন তার রিযিক বাড়িয়ে দেন। যাকে ইচ্ছা করেন তার রিযিক কমিয়ে দেন। তিনি অবশ্যই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত, পূর্ণ দ্রষ্টা। (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৩০)
ব্যস্ততার আগে অবসরকে মূল্যায়ন
অবসর সময়ও মানুষের জন্য একটি নিয়ামত। এ সময় ইবাদত, জ্ঞানচর্চা ও উপকারী কাজে ব্যয় করা যায়। অন্যদিকে, ব্যস্ততা বেড়ে গেলে এসব কাজের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অবসরকে অলসতায় না কাটিয়ে কল্যাণকর কাজে লাগানো উচিত।
মৃত্যুর আগে জীবনের মূল্যায়ন
মানুষের জীবন কত দিনের, তা কেউ জানে না। মৃত্যু যেকোনো সময় আসতে পারে। তাই বেঁচে থাকতেই সৎকাজ, ইবাদত ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, বল যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। (সুরা জুমুআ, আয়াত ৮)