আজ পবিত্র আশুরা

২৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

আশুরা একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো দশ। হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটির ধর্মীয় গুরুত্ব ও পবিত্রতা অত্যন্ত প্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যমান। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর দেখতে পান যে, ওখানকার ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছে। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ হযরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের অত্যাচারী ফেরাউনের হাত থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে সপরিবারে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুসার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরাই অধিক হকদার।’ অতঃপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও তা পালনের নির্দেশ দেন।

তবে ইহুদিদের ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু ১০ তারিখ নয়, এর সঙ্গে আগের দিন (৯ তারিখ) অথবা পরের দিন (১১ তারিখ) মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখেও রোজা রাখব।’ তাই আশুরার আমল ও সুন্নত হলো ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা রাখা।

আশুরার অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো, সত্য কখনো পরাজিত হয় না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে হযরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা যখন নিরস্ত্র ও অসহায় ছিলেন এবং পেছনে শক্তিশালী ফেরাউনের বিশাল বাহিনী ও সামনে উত্তাল সাগরের মুখোমুখি হয়ে মহাসংকটে পড়েছিলেন, তখনো মহান আল্লাহ তাঁর কুদরতে সত্যকে জয়ী করেন। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, সংকট যত কঠিনই হোক না কেন, আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধারণ করলে পথ সুগম হয়।

পাশাপাশি ইসলামের ইতিহাসে মহররমের ১০ তারিখে সংঘটিত কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাও মুসলমানদের জন্য গভীর শিক্ষণীয়। নবী দৌহিত্র হযরত হুসাইন (রা.) অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের কাছে মাথানত না করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অটল থেকে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি পার্থিব কোনো স্বার্থ বা ক্ষমতার মোহে আদর্শ বিসর্জন দেননি। কারবালার এই রক্তস্নাত অধ্যায় প্রমাণ করে যে, একজন মুমিন কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতে পারে না এবং সত্যের জন্য প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকে।

তবে কারবালার এই ঐতিহাসিক শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামের বিধি-বিধান লঙ্ঘন করা সমীচীন নয়। শোক প্রকাশের নামে নিজের শরীরকে আঘাত করা, আত্মপ্রহার, বুক চাপড়ানো, কাপড় ছেঁড়া বা শরীর ক্ষতবিক্ষত করার মতো মাতম করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি গালে আঘাত করে, কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো আহ্বান (বিলাপ) করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ তাই আশুরার প্রকৃত চেতনা হলো—অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে অনড় থাকা, ধৈর্য ধারণ করা এবং সুন্নাহ সম্মত উপায়ে ইবাদত ও রোজা পালনের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করা।

বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবসে টঙ্গীতে ছাত্রশিবিরের সাইকেল র‍্যালি
  • ২৬ জুন ২০২৬
প্রাথমিকের নতুন শিক্ষাক্রমে ‘সাংস্কৃতিক শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত…
  • ২৬ জুন ২০২৬
একাধিক পরিবর্তন নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিন…
  • ২৬ জুন ২০২৬
ব্রাজিলকে এড়িয়ে নকআউটে যাদের পেল নেদারল্যান্ডস
  • ২৬ জুন ২০২৬
টঙ্গীর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ সহায়তা দিল জামায়…
  • ২৬ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত যে ৮ দলের
  • ২৬ জুন ২০২৬